নাজনীন চুমকি
প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০১৩, ১৯:৫৯
কেমন যাচ্ছে আপনার সময়টা?
শুধু আমি না, আমাদের সবার জন্যই সম্ভবত সময়টা নেগেটিভ। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি প্রতিটি পেশাজীবীর জন্যই অসনীয়। একটি অনিরাপত্তায় ভুগছে সবাই। অসুস্থ হলে হাসপাতালে যাব, সেখানো কোনো নিরাপত্তা নেই। আর ক্যারিয়ার বিষয়ে বলব এর পুরোটা সময়ই আমার জন্য পজেটিভ। কেননা আমি আগেও যেমন কাজ করেছি এখনও ঠিক তেমনই কাজ করে চলছি। বর্তমান দেশে বিদ্যমান পরিস্থিতি আমাকে অনেকটা বিমর্ষ করে তুলছে। সময়ই বলে দেয়, কোন দিকে যেতে হবে। হয়তো এই সংকটময় পরিস্থিতি সহজভাবেই শেষ হবে।
বর্তমানে ব্যস্ততা কী নিয়ে?
আমি আসলে বরাবরই নিজেকে দেখতে চেয়েছি ভালো কাজের একজন অভিনেত্রী হিসেবে। বর্তমানে কাজের ব্যস্ততা একটু বেশি। একক ও ধারাবাহিকে কাজ করছি সমান গতিতে। এছাড়া নাটক লিখছি। একটি নাটক বানানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
কোন ধরনের নাটকে কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?
অভিনয়ের সুযোগ রয়েছে এমন যেকোনো চরিত্রেই অভিনয় করতে আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। কেননা দৈনন্দিনের আশপাশের চেনা সকল চরিত্রগুলোকেই পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে আমি পছন্দ করি। আর নাটকের এই দুই ধারাতে আমার কাছে দু ধরনের টেস্ট। যেমন একক নাটকে একটি জীবনকে পুরো এক ঘণ্টাতেই তুলে নিয়ে আসতে হয় আর ধারাবাহিকে জীবনের খুঁটিনাটি নানা বিষয় সংযোগ করে। সব মিলিয়ে দুটো ধারাতেই আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। আর বর্তমানে আমাদের স্ক্রিপ্টের মধ্যে অনেক বৈচিত্র্য এসেছে। এখন আর নির্দিষ্ট প্রেম-ভালোবাসার মধ্যে আমাদের নাটক আটকে নেই। জীবনঘনিষ্ঠ নানা চরিত্রেই অভিনয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
নাটকের মাঝে অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন দেখানো সম্পর্কে আপনার মতামত জানতে চাই।
বিজ্ঞাপন ছাড়া সবকিছুই প্রচার সম্ভব না। নাটকের ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন বেশি হলেও আপত্তি নেই, কিন্তু মাঝে মাঝে দেখা যায় সিক্যুয়েন্সের মাঝখানেই বিজ্ঞাপন শুরু হয়ে যায় এতে করে ওই সিক্যুয়েন্সটি স্বকীয়তা হারায়। নাটকের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞাপনের একটি নির্দিষ্ট ম্যাপ থাকা উচিত। নির্দিষ্ট সময় শেষে দর্শক যেন পরের ঘটনাটি দেখার আগ্রহ না হারিয়ে ফেলে। আমাদের কাজে অনেক সৃজনশীলতা রয়েছে কিন্তু তারপরও আমাদের এখানে নাটকে অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন দেখায় যে নাটকের কথা দর্শক বেমালুম ভুলে যায়। এ ক্ষেত্রে নাটকে সহজ ধারাটি নষ্ট হয়।
আপনার নাগরিক আনন্দ-বেদনা কতটুকু?
বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে অবশ্যই আমার গর্বের জায়গাটি অনেক বিশাল। কেননা একাত্তরের ৯ মাস যুদ্ধ শেষে আমরা একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছি। নিজেদের এই বীরত্বগাথা নিয়ে যেকোনো বাঙালির গর্বে বুক ফুলে উঠার কথা। কিন্তু আমার বেদনা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে। কিন্তু তারপর পরও দেশের নাগরিক হিসেবে অবশ্যই দেশের কাছে আমার কৃতজ্ঞতা ও দায়বদ্ধতা আছে। নানা প্রতিকূলতার মাঝেও আমাদের দেশ এগিয়ে যাবে এমনটাই আশা করছি। সবাই নিজেদের দায়িত্ব যদি সত্ ও সঠিকভাবে পালন করি তাহলে সমাজে কোনো সমস্যাই থাকবে না।