বাপ-ছেলের লড়াই

সেরা পাঁচটি হলিউডি অ্যাকশন ছবির নাম জানতে চাওয়া হলে দশজন দশ রকমের তালিকা দেবে সেটাই স্বাভাবিক। তবে আর দশটা অ্যাকশন ছবির ভেতর একটা নাম সবার তালিকায় থাকবেই। নামটি ‘ডাই হার্ড’। অ্যাকশনের জগতে পরপর চারটি ভূমিকম্পের পর এবার এর ভক্তরা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে পঞ্চম ধাক্কার জন্য। ১৪ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পেয়েছে সিরিজের পঞ্চম পর্ব ‘এ গুড ডে টু ডাই হার্ড’। তবে নতুন কোনো মিশনে নয়, উচ্ছনে যাওয়া বখাটে ছেলেকে (জ্যাক) ফিরিয়ে আনতে চান বাবা। কিন্তু ছেলে তার বাবার সাথে ফিরতে রাজি নয়। কারণ বখাটে চরিত্রের ভান করা জ্যাক যে একজন সিআইএ-এর স্পেশাল এজেন্ট! তার অ্যাসাইনমেন্ট হলো সন্ত্রাসী এবং মাফিয়া ডনদের হাতে থাকা ভয়ঙ্কর পারমাণবিক বোমা উদ্ধার করা। ব্যস, আর যায় কোথায়! বাবা-ছেলে লেগে পড়ল মাফিয়াদের বিরুদ্ধে। এই হলো ‘ডাই হার্ড-৫’-এর কাহিনী। এবারের কাহিনী আর আবদ্ধ নেই কোনো সুউচ্চ টাওয়ার কিংবা ওয়াশিংটন বিমানবন্দর বা পাগল কোনো হ্যাকারকে নিয়ে। সেই ১৯৮৮ সাল থেকে শুরু হওয়া ‘ডাই হার্ড-১’ থেকে শুরু করে ‘ডাই হার্ড-৫’-এও জন ম্যাক ক্লেইনের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ব্রুস উইলিস। আর ছেলে জ্যাকের ভূমিকায় আছেন জে কার্টনি। ছবিটিতে আরও অভিনয় করেছেন সেবাস্টিয়ান কশ এবং আবেদনময়ী মেরি এলিজাবেথ ও ইউলিয়া স্নিগির। জন মুরের পরিচালনায় ছবিটি রিলিজ পেয়েছে টুয়েন্টিন্থ ফক্স সেঞ্চুরির ব্যানারে। ‘ডাই হার্ড’ সিনেমার নায়ক মানে জন ম্যাকক্লেইন, আর ম্যাকক্লেইন মানে ব্রুস উইলিস। মানুষটি যেন সিনেমার সঙ্গে একেবারে মিথোজীবী সম্পর্কে জড়িয়ে গেছেন। জড়িয়ে গেছে তার ড্যামকেয়ার সেই দৃষ্টি আর ‘ইয়েপ্পিই-কা-য়েই’ নামের বিচিত্র কিন্তু বিখ্যাত সেই গালিটাও। প্রতিবার ভিলেনকে মারার আগে একবার কথাটা তার বলা চাই-ই। এর মানে কী হতে পারে তা নিয়ে গবেষণা হয়েছে বিস্তর। তবে বেশি গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যাটা হলো, ‘ইয়েপ্পিই-কা-য়েই’ মানে হ্যাপি ট্রেইলস টু ইউ অর্থাত্ যাত্রাপথ শুভ হোক। যেহেতু আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী আর রাশিয়ান মাফিয়াদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, ম্যাকক্লেইন আর জ্যাককে ব্যবহার করতে হয়েছে ভয়ঙ্কর সব মারণাস্ত্র। বাবা-ছেলের কাছে মডিফায়েড কোল্ট, একে-৪৭, এমপি-৫ এর মতো স্বয়ংক্রিয় রাইফেল চালানো ছিল ডাল-ভাত। এবার চালাতে হয়েছে রাশিয়ান হেলিকপ্টার গানশিপ আর আর্মাড কার। তাই বোঝাই যাচ্ছে অ্যাকশনের কোনো অভাব থাকছে না ছবিটিতে। সেই ‘এক্সপেনডেবলস-২’তে নিজের অ্যাকশনের ঝলক একটু যা দেখিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে তো আর ব্রুস ভক্তদের অ্যাকশন ক্ষুধা মেটে না। ৫৭ বছর বয়েসী এই অভিনেতার যেন এতটুকু ক্লান্তি নেই। এই বয়সেও মাত করছেন অ্যাকশন মুভির জগত্। মুক্তির প্রথম দিনেই ‘ডাই হার্ড-৫’ আয় করেছে ২৫ মিলিয়ন ডলার! ব্রুস উইলিসকে লোকে চিনেছে কমেডি সিরিজ ‘মুনলাইটিং’ দিয়ে। আর সেখানে তার মধ্যে কী যেন ধরা পড়ে যায়! সেটা দেখতে পেয়ে ১৯৮৮ সালের ‘ডাই হার্ড’-এ তাকে বাছাই করেন পরিচালক জন ম্যাকটিয়ারনান। আর নিউ ইয়র্ক সিটির এই গোয়েন্দার এক ছবি হিট হয়ে গেল গোটা দুনিয়ায়। জনপ্রিয় এই অভিনেতার সম্পর্কে মজার একটি তথ্য জানা যায় যে, তিনি আধুনিক যুগে বসবাস করেও প্রযুক্তি বিমুখ। ‘ডাই হার্ড’ ও ‘সারোগেটস’ তারকা ব্রুস উইলিস বলেছেন, ‘আমি ইলেকট্রনিক মাধ্যম ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ খুব একটা পছন্দ করি না। পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সবাই এখন সোশ্যাল নেটওয়ার্কের ওপরই অনেক বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। মানুষ দিন দিন দ্রুততর তথ্য যোগাযোগ তৈরি করছে। অথচ, যদি বিদ্যুত্ চলে যায় তবে এখনই এমন সকল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।’ তিনি আরো জানিয়েছেন, পৃথিবীতে প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ফলাফলের উদাহরণ পপ কিং তারকা মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যু। জ্যাকসনের মৃত্যু সংবাদটি দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পৃথিবীকে এখনতো ১ মুহূর্তেরও কম সময়ে জানা যায়। ১০ বা ২০ বছর আগে এটি কল্পনাও করা যেত না।’ পৃথিবীকে প্রযুক্তি গ্রাস করে ফেলছে, এমন ঘটনা নিয়ে বানানো ছবি ‘সারোগেট’ এ অভিনয় প্রসঙ্গে তিনি রসিকতা করে বলেন, ‘আমি ১০-১১ বার পৃথিবীকে বাইরের আক্রমণ থেকে রক্ষা করেছি। এসব করেছি বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেই।’ তার অভিনিত কয়েকটি সিনেমা : দ্য ফার্স্ট ডেডলি সিন (১৯৮০), ব্লাইন্ড ডেট (১৯৮৭), দ্য রিটার্ন অব ব্রুনো (১৯৮৮), ডাই হার্ড (১৯৮৮), কালার অব নাইট (১৯৯৪), দ্য ফিফথ এলিমেন্ট (১৯৯৭), আর্মাগার্ডেন (১৯৯৮), দ্য সিক্সথ সেন্স (১৯৯৯), এক্সপান্ডেবল ২ (২০১২), জি.আই.জো (২০১৩) প্রভৃতি।