মিয়ানমারের মুসলিম হত্যা ভিক্ষুদের নেতৃত্বে
প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০১৩, ২১:০৭
এক পর্যায়ে তরুণী মুসলিম মেয়েটিকে ধরে ফেলল এক বৌদ্ধ ভিক্ষু, ধরেই তার গলায় একটি ধারালো ছুরি ঠেকালো। “যদি তোমরা আমাদের পিছু পিছু আস, তাহলে আমি ওকে মেরে ফেলব,” পেছনে ফিরে পুলিশ বললো ওই ভিক্ষু, এটি এক প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা। বড় ছুরি ও তলোয়ার নিয়ে একদল উত্তেজিত বৌদ্ধ মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলীয় এক শহরে প্রায় ১শ’ মুসলমানকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। ২১ মার্চ, বৃহস্পতিবার। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ২৫ জন মুসলমানকে হত্যা করা হয়। বৌদ্ধ দাঙ্গাবাজরা নিহতদের রক্তাক্ত দেহগুলো পাশের এক পাহাড়ে নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে ফেলে। কয়েকজনকে কেটে জঙ্গলাকীর্ণ ডোবায় ফেলে দেয়া হয়েছে। দশ বছর বা তারো কম বয়সী দু’টি শিশুর পোড়া লাশও দেখা গেছে। ২০১১ সালের মার্চে সামরিক শাসন শেষ হওয়ার আগে ৪৯ বছর ধরে মিয়ানমারে সাংস্কৃতিক, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ চাপা পড়ে ছিল। এখন এটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক রূপান্তরকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। ভিন্ন সংস্কৃতিধারীদের মুছে ফেলার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, আর যারা এসবে ইন্ধন দিচ্ছে আইনও তাদের স্পর্শ করছে না।
রাজধানী নাইপিতাও থেকে মাত্র ১৩০ কিলোমিটার দূরে এক লাখ বাসিন্দার এক শহরে মাত্র চারদিনে ৪৩ জন লোককে হত্যা করা হয়েছে। শহরের প্রায় ১৩ হাজার মুসলিম বাসিন্দাকে তাদের বাসস্থান ও ব্যবসা থেকে উচ্ছেদ করে শহর থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এই সম্প্রদায়িক দাঙ্গা এই শহরটির আশপাশের গ্রামগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। শহর থেকে বৌদ্ধ দাঙ্গাবাজরা আশপাশের অন্তত ১৪টি গ্রামে গিয়ে মুসলিম এলাকায় হামলা চালিয়ে তাদের বাস্তুচ্যুত করেছে। এসব দাঙ্গার ঘটনায় প্রায় ৩০ জন প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য থেকে এটি বোঝা যায়, মিখতিলার ২৫ মুসলিমকে হত্যার ঘটনায় বৌদ্ধ ভিক্ষুরাই নেতৃত্ব দিয়েছিল। এসব দাঙ্গায় জড়িত থাকার দায়ে প্রায় ৪২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এতে মিয়ানমারে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করা মুসলিমদের মধ্যে কোনো নিরপত্তাবোধ তৈরি করেনি। এসব দাঙ্গার ঘটনা প্রতিরোধে পার্লামেন্টের বিরোধীদলীয় নেত্রী শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সান সু চিও দৃঢ় ভূমিকা রাখতে পারেননি। এই ব্যর্থতায় নৈতিকতার একজন প্রতিনিধি হিসেবে সু চি’র ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হয়েছে। দাঙ্গার বিষয়ে মৃদুভাবে সতর্ক করা ছাড়া ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধ সু চি’র কোনো জোরালো বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। আইনের মাধ্যমে ঘটনা নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে শুধু সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন তিনি। এই প্রতিবেদনের জন্য রয়টার্স সু চি’র সাক্ষাত্কার নিতে চাইলেও তিনি তা দিতে রাজি হননি।