ব্যবসা মন্দা, আগ্রহ নেই হালখাতায়

হালখাতা নিয়ে চরম হতাশ ব্যবসায়ীরা। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ ও বিভিন্ন বিপণি কেন্দ্রের ব্যবসায়ীদের মধ্যে এবার হালখাতা নিয়ে তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। হরতালসহ রাজনৈতিক অস্থিরতায় বকেয়া আদায় নিয়ে ব্যবসায়ীরা সংশয়ের মধ্যে রয়েছে। গত দেড় মাস যাবত্ পণ্যের বেচা-বিক্রি ৫০ শতাংশ কমে গেছে। নিয়মিত ব্যবসায়িক লেনদেন কমে যাওয়ায় বকেয়া পরিশোধে সাড়া মিলছে না বলে পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান। বিদায়ী বছরের শেষে ব্যবসায়ীদের মধ্যে হালখাতা কার্যক্রম আবহমানকাল থেকে চলে আসছে। বিদায়ী বছরের ব্যবসা-বাণিজ্যের হিসাব-নিকাস করে দেনা পাওনা পরিশোধ করা হয়। নতুন বছরে পুনরায় ব্যবসা শুরু করা হয়। নিয়মিত ব্যবসার কারণে মৌখিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে নগদে বাকিতে চলে ব্যবসায়িক লেনদেন। নতুন বছরে নতুন খাতায় শুরু করা হয় হিসাব-নিকাশ। এই জন্য গত কয়েক মাস যাবত্ নগরীর বিভিন্ন ছাপাখানা ও বাইন্ডিংয়ের দোকানগুলোতে খাতা বাঁধাইয়ের চাপ বেড়েছে। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। সাধারণত স্বর্ণ, ভোগ্যপণ্য, অ্যালোমুনিয়াম, ক্রোকারিস, পাইকারি মাছ বিক্রেতা, কাপড়, ওষুধ ও দেশের বিভিন্ন স্থানে মুদির দোকানগুলোতে বছরশেষে হালখাতা নিয়ে ব্যস্ততা বেড়ে যায়। কিন্তু এবার পাইকারি এসব পণ্যের ব্যবসায়ীদের মধ্যে কোন উত্সাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে না। হরতালে বেচা-বিক্রি নেই, সর্বত্র হতাশা। হরতালের কারণে বিক্রিত পণ্য সরবরাহ করতে না পেরে গুদামে আটকা পড়ে আছে। আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ। তবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা ভারতের সাথে মিল রেখে একদিন পর দিনটি পালন করে থাকে। এবারের হালখাতা নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণীর ব্যবসায়ীদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, বেচা বিক্রি নেই, অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে এবার মোট বকেয়ার ২০ শতাংশও আদায় হবে না। যাদের কাছে টাকা বকেয়া রয়েছে এদের মধ্যে অনেকেই যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে চাক্তাই চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর আজম ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে চাল এনে বিক্রি করি। বিভিন্ন দোকানির কাছে বিপুল পরিমাণ টাকা বকেয়া থাকে। বছরের শেষে বকেয়া পরিশোধ করে নতুন করে লেনদেন শুরু করাই নিয়ম। কিন্তু এবার বকেয়া ২০ শতাংশ আদায় হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।’ পাহাড়তলী বাজারের পাইকারি চাল ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘এই বাজারে শতাধিক চাল ব্যবসায়ী রয়েছে। এমন কোন ব্যবসায়ী নেই যাদের ৪/৫ কোটি টাকা বকেয়া নেই। ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দার কারণে এবার মোট বকেয়ার ৩০ শতাংশ আদায় হবে না।’ খাতুনগঞ্জের পেঁয়াজ, রসুন ও আদাসহ মসল্লা জাতীয় পণ্যের পাইকারি ব্যবসায়ী হাজী মোহাম্মদ আলী বলেন, গত দেড় মাস যাবত্ হরতাল, অবরোধসহ রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বেচা-বিক্রিতে চরম মন্দা চলছে। নগরীর ফিশারীঘাট এলাকায় রয়েছে শতাধিক মাছের আড়ত। আড়তদাররাও হালখাতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। আড়তদার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘যশোর, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা থেকে দৈনিক ৪/৫ ট্রাক মাছ আনা হতো। হরতালের কারণে তা আনা যাচ্ছে না।