হপার পোকায় স্বপ্ন ধূলিসাত্ জীবননগরের আম চাষিদের
মুন্সী মাহবুবুর রহমান বাবু, জীবননগর সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০১৩, ২২:০৮
হপার নামক একপ্রকার কীটপতঙ্গের আক্রমণে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আম চাষিদের স্বপ্ন ধূলিসাত্ হয়ে গেছে। সারা বছর আমবাগান পরিচর্যা করার পর এবার আশানুরূপ মুকুল আসে গাছে। আমচাষিরা স্বপ্নে বুক বাঁধে; কিন্তু তাদের সেই স্বপ্ন হপার পোকা শেষ করে দিয়েছে। এ পোকার আক্রমণে গাছের ৮০ ভাগ গুটি ঝরে গেছে। বাকি গুটিও ঝরে যাওয়া অব্যাহত থাকায় আমচাষিরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ব্যাপক চাহিদা ও লাভজনক হওয়ায় এ উপজেলার কৃষকরা আমবাগানের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। যার ফলে প্রতিবছরই এ উপজেলায় আম বাগানের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবার এ উপজেলায় ৩৫০ হেক্টর জমির বাগানে আম এসেছে। এর মধ্যে দেশি জাতের হিমসাগর, ল্যাংড়া, বোম্বাই, তিলে বোম্বাই ও হাইব্রিড জাতের আম্রপালি ও মল্লিকা জাতের আমই বেশি।
চলতি মৌসুমের শুরুতে প্রতিটি গাছে প্রচুর পরিমাণে আমের মুকুল আসে। গাছে মুকুলের এ সমারোহ দেখে আমচাষিদের মুখে হাসি ফুটে ওঠে; কিন্তু বর্তমানে আমবাগানে হপার পোকার ব্যাপক আক্রমণে আমের গুটি ঝরে পড়ছে। ওষুধ দিয়েও কোন কাজ হচ্ছে না। ফলে চরম লোকসানের আশঙ্কা করছেন চাষিরা। আম চাষিরা জানান, বৈরী আবহাওয়া ও ভয়াবহ এ পোকার আক্রমণ থেকে কোনভাবেই তারা গাছে আমের গুটি টিকিয়ে রাখতে পারছেন না। পোকা নিধনে কীটনাশক স্প্রে করেও কোন প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান আম চাষিরা।
উপজেলার উথলী গ্রামের আমচাষি রবিউল হক জানান, হপার পোকার আক্রমণে তার ৩ বিঘা বাগানের আম গাছের মুকুল ঝরে গেছে। এ ক্ষেত্রে কীটনাশক স্প্রে করেও কোন প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। একটি বাগানে এ পোকা আক্রমণ করলে আশপাশের বাগানেও তা ছড়িয়ে পড়ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ জানান, গাছে ভয়াবহ আকারে হপার পোকার আক্রমণ ও মুকুল আসার পর প্রচণ্ড রোদের কারণে আমের গুটি ঝরে পড়ছে। তবে গাছের গোড়ায় ভাল করে সেচ দিলে ও কিটনাশক স্প্রে করলে এ ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।