বহুবিবাহ একটি সামাজিক অনাচার
প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০১৩, ২২:১১
আমাদের দেশে নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোতে কয়েকটি ব্যতিক্রমধর্মী ব্যাপার ঘটে-তার মধ্যে বহুবিবাহ একটি। কোনো কোনো পরিবারে দেখা যায়-ছেলের বয়স যাই হোক, একটি আয়ের ব্যবস্থা হলেই সে বিয়ে করে। বছর দুয়েক যেতে না যেতেই প্রথম স্ত্রীকে ছেড়ে আবার অন্য একটি মেয়েকে ঘরে তোলে। এভাবে অনেক সময় এক ব্যক্তি জীবনে দশ-বারোটি পর্যন্ত বিয়ে করে। আর্থিক অনটন ও সামাজিক নিরাপত্তার কারণে অনেক অসহায় বাবা-মা একাধিকবার বিবাহিত লোকের হাতেই মেয়েকে তুলে দিতে বাধ্য হয়। প্রায় প্রত্যেক স্ত্রীর গর্ভেই দু-একটি ছেলেমেয়ে থাকে। এ বাচ্চাগুলোর ভরণপোষণ মাকেই করতে হয়। পরিত্যক্তা স্ত্রী তার নিজের ইজ্জত বাঁচাতে এবং কিছুটা আর্থিক সহায়তার আশায় যে কোনো বয়সের একজনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়। অবশ্য এ বিয়েও যে সব ক্ষেত্রে স্থায়ী হয় তা নয়। বিয়ে হওয়ার আগে বাবার ঘরে এবং বিয়ে হওয়ার পরে স্বামীর ঘরে প্রত্যেক মেয়ে বা মহিলাকে গতর খাটিয়ে আয় করে নিজের এবং পরিবারের ভরণপোষণে সাহায্য করতে হয়। এ বিয়েগুলো স্থানীয় কোনো মৌলভী সাহেব পড়িয়ে দেন। এতে কোনো কাবিন থাকে না এবং দেনমোহরের পরিমাণ থাকে একেবারেই অল্প অংকের অর্থের। স্ত্রী তালাক দেওয়ার সময় দেনমোহরের কথা কেউ তোলে না। যদি তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী বলে তবে এ কথার কোনো পাত্তাই দেওয়া হয় না। তালাক হয়ে যায় এক কথাতেই। শুধু বলে দিলেই হলো তোকে আমি রাখবো না। ধর্মীয়ভাবে এ তালাক বৈধ হলো কিনা তা দেখবার কেউ থাকে না। দায়িত্বহীন মানসিকতার উত্তরণ ঘটাতে না পারলে দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতির প্রতিবন্ধতা কোনোভাবেই দূর করা যাবে না। এ ব্যাপারে সরকার, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোর এবং এনজিওদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
কবিতা চাকলাদার,
সহকারী অধ্যাপক (অর্থনীতি),
লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ, লক্ষ্মীপুর