ভোগ্যপণ্যের বৃহত্তম বাজার খাতুনগঞ্জে আর্থিক লেনদেনে ধস
সৈয়দ আবদুল ওয়াজেদ, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০১৩, ২৩:০২
চলতি মাসের শুরুতে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং উপর্যুপরি হরতালে দেশের খাদ্যশস্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের বৃহত্তম বাজার খাতুনগঞ্জের আর্থিক লেনদেনে ধস নেমেছে। চলতি সপ্তাহে খাতুনগঞ্জ থেকে পণ্য ডেলিভারি না হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ক্রেতারা এখানকার পাইকারি ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের ব্যাংক এ্যাকাউন্টে অনলাইনে টাকাও পাঠাননি। খাতুনগঞ্জে বিভিন্ন ব্যাংকের প্রায় ৪০টি শাখা রয়েছে।
পণ্য কেনাবেচা ও আর্থিক লেনদেনে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে ধস নামার বিষয়টি বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। খাতুনগঞ্জের আড়ত এবং নগরীর সদরঘাটসহ বিভিন্ন এলাকার গুদাম থেকে সময়মতো আমদানিকৃত পণ্য ডেলিভারি না হওয়ায় আমদানিকারকদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে চরম উত্কণ্ঠা। আমদানি পণ্য সময়মতো বিপণন না হলে তারা ব্যাংকের ঋণের কিস্তি সময়মতো পরিশোধে ব্যর্থ হবেন বলে তারা জানান। এতে তারা মুখোমুখি হবেন বিপুল অংকের সুদের বোঝার।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি সৈয়দ ছগির আহমদ ইত্তেফাককে জানান, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে খাতুনগঞ্জের দৈনিক লেনদেন কমে এসে দাঁড়িয়েছে ৫০ কোটি টাকা থেকে ১০০ কোটি টাকায়। অথচ স্বাভাবিক সময় এই লেনদেনের পরিমাণ ছিলো দৈনিক ৮০০ কোটি টাকা থেকে ১০০০ কোটি টাকা। তার মতে এটা খাতুনগঞ্জে স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ স্থবিরতা। ব্যবসায়ীরা এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চাইছেন। তিনি বলেন, ‘এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে জাতীয় অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। জনগণের কষ্ট ও দুর্ভোগ সহ্যেরসীমা অতিক্রম করবে।’
যমুনা ব্যাংক খাতুনগঞ্জ শাখার ম্যানেজার শাহাবুদ্দিন জানান, দেশের নানা প্রান্তের ক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহ করেও টাকা ফেরত আসেনি খাতুনগঞ্জের পাইকার ও আড়ত ব্যবসায়ীদের কাছে। ফলে ব্যাংকে লেনদেনের ক্ষেত্রে পুরো সপ্তাহ জুড়েই টাকার প্রবাহ অনেক কমে গেছে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতংক লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসার অপেক্ষায় আছেন। তিনি জানান, খাতুনগঞ্জের ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসআরও আদেশ অনুসরণ করে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খোলা রাখা হচ্ছে।
শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক খাতুনগঞ্জ শাখার ম্যানেজার হাবিবুল ইসলাম জানান, খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা ডেলিভারি অর্ডার পেলেও তারা দেশের নানা প্রান্তে পণ্য সরবরাহ করতে পারেননি পুরো সপ্তাহ জুড়ে। ফলে তাদের এ্যাকাউন্টে টাকা আসছে না। তার মতে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে খাতুনগঞ্জের ব্যাংকগুলোতে আর্থিক লেনদেন হ্রাস পেয়েছে ৬০ শতাংশ। সীমিতভাবে যে লেনদেন হচ্ছে সেই টাকাটা আসছে স্থানীয় পর্যায়ের নগদ বেচাকেনা থেকে।
এদিকে হরতালে খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজার থেকে পর্যাপ্ত পণ্য সরবরাহ না আসার অজুহাতে মহানগরীর খুচরা বাজারগুলোতে চাল, ডাল ও খোলা ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কেজি প্রতি ৫ টাকা থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে বলে ভোক্তারা জানিয়েছেন।