চট্টগ্রামের রাজনীতি আবারো সন্ত্রাসীনির্ভর হয়ে পড়ছে

দীর্ঘদিন পর চট্টগ্রামের রাজনীতিতে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। যতই রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হচ্ছে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদেরও কদর বাড়ছে। গত বেশ কয়েক বছর ধরে অন্তত চট্টগ্রামে রাজনীতির ময়দানে প্রকাশ্যে তেমন একটা অস্ত্রের প্রদর্শন দেখা যায়নি। কিন্তু গত সোমবার হঠাত্ করে নগরীর লালখান বাজার মোড় এলাকায় শটগান, পিস্তলসহ ধারালো অস্ত্রের ব্যবহার পত্র-পত্রিকায় এবং ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায় প্রচার হওয়ার পর জনগণের মধ্যে আতংক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। একইদিন বিকালে নগরীর তিন পোলের মাথায় আরো বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্রের প্রদর্শন ও ব্যবহার দেখা যায়। সামপ্রতিক বছরগুলোতে লাঠি-সোটা এবং ধারালো অস্ত্রের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হতে দেখা গেছে। আবার সামপ্রতিক সময়ে ঘরে তৈরি ককটেল, হাতবোমা ও গ্রেনেড ছুঁড়ে মারতে দেখা যায়। কিন্তু পুলিশের সামনে ছোট-বড় অস্ত্র উঁচিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হওয়ার বিষয়টি চট্টগ্রামে দেখা যায়নি। চট্টগ্রামের রাজনীতিতে এক সময় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের আধিপত্য ছিল। সে সময় কোন্ নেতার নিয়ন্ত্রণে কত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী রয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে ওই নেতার প্রভাব নির্ভর করতো। একইভাবে জেলার বিভিন্ন উপজেলাও বিভিন্ন সন্ত্রাসী বাহিনীর দখলে ছিল। শহর এবং জেলার বিভিন্ন সন্ত্রাসী গডফাদারদের পরিচিতি ছিল বেশি। কারণ যেকোন খুন ও সন্ত্রাসী ঘটনার সাথে কোন না কোন সন্ত্রাসী বাহিনী জড়িত ছিল। পত্রিকার মাধ্যমে ওই সকল সন্ত্রাসী বাহিনীর পরিচয় সকলে জানতো। পরবর্তীতে বিভিন্ন সরকারের সময়ে ব্যাপক অভিযান, ক্লিনহার্ট, র্যাবসহ বিশেষ অভিযানের প্রেক্ষিতে সন্ত্রাসীদের এলাকা ছাড়তে হয়েছে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের বহু নেতা-কর্মীকে ক্রস ফায়ারসহ অপমৃত্যুর শিকার হতে হয়েছে। এখনও জেলখানায় অনেকে আটক রয়েছে। র্যাব ও পুলিশের তালিকায় থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অনেকে বিদেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। চট্টগ্রামের কয়েকজন তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী দেশে অবস্থান করলেও প্রকাশ্যে আসার সাহস করছে না। দেশে-বিদেশে পালিয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের প্রত্যেকেই কোন না কোন রাজনৈতিক দল কিংবা বিভিন্ন গ্রুপ লিডারের সমর্থনপুষ্ট হিসাবে পরিচিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় থাকা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের প্রথমেই দমনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় এর মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাবে। রাজনীতিতে সন্ত্রাসী মাস্তানদের আনাগোনা বেড়ে গেলে প্রকৃত রাজনীতিবিদদের হাতে রাজনীতি থাকবে না।