বাকেরগঞ্জে বাস নদীতে ৩০ যাত্রী নিখোঁজ
লিটন বাশার, গোমা থেকে ফিরে
প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০১৩, ২৩:০৯
বাকেরগঞ্জের গোমা ফেরিঘাটে প্রায় অর্ধশত যাত্রী নিয়ে একটি বাস গতকাল বুধবার দুপুরে নদীতে নিমজ্জিত হয়েছে। আহত ৪/৫ যাত্রীকে উদ্ধার করে চিকিত্সার জন্য হাসপাতালে পাঠানো সম্ভব হলেও নিমজ্জিত বাসের মধ্যে প্রায় ৩০ জন আটকে আছেন বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
নিমজ্জিত বাসটি পানির নিচ থেকে টেনে তোলার জন্য উদ্ধারকারী জলযান হামজা সন্ধ্যা ৬টায় বরিশাল নৌ-বন্দর থেকে রওয়ানা হয়েছে। হামজার কমান্ডার জানান, অকুস্থলে পৌঁছাতে তাদের কমপক্ষে ৮ ঘণ্টা সময় লাগবে।
বাস মালিক মোহম্মদ আলম ইত্তেফাককে জানান, মায়ের আচল-৩ নামের যাত্রীবাহী বাসটি চরকাউয়া বাস টার্মিনাল থেকে প্রায় ৪৫ জন যাত্রী নিয়ে বাকেরগঞ্জের গোমার উদ্দেশে রওয়ানা হয় বেলা ৩টায়। বাসটি পৌনে ৪টায় গোমা ফেরি ঘাটে পৌঁছায়। রাঙ্গামাটি নদীর পশ্চিম প্রান্তে (বলাইকাঠী-গোপালপুর) ফেরি না থাকায় বাসের চালক জাকির হোসেন বাসটি ফেরিঘাটের পন্টুনে নামিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি যাত্রীদের নিয়ে পন্টুনের বেশ কয়েক গজ দূরে ছিটকে পড়ে যায়। তখন ফেরিটি পূর্ব তীরে (গোমা প্রান্তে) অবস্থান করছিল।
দুর্ঘটনা কবলিত বাস থেকে সাঁতরিয়ে তীরে উঠতে সক্ষম হওয়া যাত্রী কাদের মোল্লা (৩৭), বাবু সিকদার (২৫), মাওলানা আব্দুর রব (৫৮) ও তার স্ত্রী আহত হওয়ায় তাদের শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সার জন্য পাঠানো হয়। আরো কয়েকজন আহত যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানালেও তাদের নাম-ঠিকানা জানান সম্ভব হয়নি। সড়ক ও জনপথ বিভাগের কার্যনির্বাহী সহকারী সোলায়মান ইত্তেফাককে জানান, সুপারভাইজারসহ ফেরিঘাটের কর্মকর্তারা ঘাটে উপস্থিত ছিলেন না। খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে গেছেন। বেলা ৫টার দিকে বরিশাল ও বাকেরগঞ্জের দমকল ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ডুবুরিরা প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে বাসটিতে রশি বেঁধে উদ্ধারের চেষ্টা করেন; কিন্ত সে চেষ্টা সফল হয়নি। দুঘর্টনার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক শহিদুল আলম ও পুলিশ সুপার একেএম এহসানউল্লাহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধার অভিযানে তদারকি করেন। তারা প্রাণহানির আশঙ্কার কথা বললেও নিশ্চিত করে হতাহতের কথা বলতে রাজি হননি। দমকল ইউনিটের ডুবুরিরা জানিয়েছেন, নিমজ্জিত বাসটি ২০/২৫ হাত পানির নিচে রয়েছে। নিমজ্জিত বাসে রশি বাঁধার পর সেখানে কোনো ক্রেন না থাকায় উদ্ধার অভিযান থেমে যায়। দমকল ইউনিটের কোনো ক্রেন না থাকায় পুলিশের একটি ক্রেন (র্যাকার) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় দুঘর্টনাস্থলের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছে বলে পুলিশ সুপার ইত্তেফাককে জানিয়েছেন। ডুবুরিরা জানান, ক্রেন দিয়ে ভারী এ বাস উদ্ধার করা সম্ভব নাও হতে পারে। তাই উদ্ধারকারী জলযান হামজা দুঘর্টনাস্থলে পৌঁছার পর নিমজ্জিত বাসটি তারা টেনে পানির তলদেশ থেকে উপরে তোলার চেষ্টা করবেন।