বড় ধরনের সহিংসতা ছাড়া রাজধানীতে ৩৬ ঘন্টার হরতাল পার

বড় ধরনের সহিংসতা ছাড়াই বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের ডাকা ৩৬ ঘণ্টার হরতাল শেষ হয়েছে। হরতাল চলাকালে গতকাল বুধবার রাজধানীতে বিক্ষিপ্ত ককটেল নিক্ষেপ, গাড়ি ভাংচুর, মিছিলকারী-পুলিশ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটলেও উল্লেখ করার মতো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। রাজপথে সহিংস পিকেটিংও লক্ষ্য করা যায়নি। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ছিল অনেকটা নেতাকর্মী শূন্য। হরতাল চলাকালে রাজধানীতে অধিকাংশ দোকানপাট খোলা ছিল। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যানবাহন চলাচল করেছে। নগরবাসীর জীবনযাত্রা বেশ স্বাভাবিক ছিল। তবে ঢাকা থেকে দূরপাল্লার রুটে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। হরতালে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক রাখা হয়। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরে ছিলেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের বাইরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল। সেখানে দলীয় নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। সকাল ৬টা ১০ মিনিটে বিজয়নগরে হরতাল সমর্থকরা মিছিল বের করে। এ সময় তারা পিকেটিং করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং একজনকে আটক করে। সকাল ৬টা ৩৩ মিনিটে মিরপুর আয়ুর্বেদিক কলেজের সামনে হরতাল সমর্থকরা একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটনায়। প্রায় একই সময়ে আহছানিয়া মিশন ক্যান্সার হাসপাতালের সামনে আরেকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। সকাল সোয়া ৭টায় খিলক্ষেত বাসস্ট্যান্ডের কাছে হরতাল সমর্থকরা পিকেটিং করার চেষ্টা করলে পুলিশ এক যুবককে আটক করে। সকাল সাড়ে ৭টায় ডেমরার রায়েববাগে জামায়াত-শিবির কর্মীরা হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে। পুলিশ তাদের ধাওয়া দিলে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। সকাল ৭টার দিকে যাত্রাবাড়িতে হরতালের সমর্থনে জামায়াত-শিবির কর্মীরা মিছিল বের করে। পুলিশ তাদের বাধা দিলে এ সময় পুলিশের সাথে হরতাল সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ রাবার বুলেট ছুঁড়ে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সকাল ৯টা ১৮ মিনিটে খিলগাঁও বাসস্ট্যান্ডের কাছে হরতালের সমর্থনে যুবদলের ব্যানারে একটি মিছিল বের হয়। মিছিল থেকে ৩টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পরে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং সেখান থেকে দুইজনকে আটক করে। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারের কাঁচাবাজার মোড়ে ছাত্রদল হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে। এ সময় তারা সেখানে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পুলিশ ছয় রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। দুপুর সাড়ে ১২টায় ফকিরাপুল পানির ট্যাংক সংলগ্ন এলাকায় ঝটিকা মিছিল বের করে ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) স্বেচ্ছাসেবক দল। এ মিছিল থেকে পাঁচটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। পিকেটাররা দুটি সিএনজি অটোরিকশা ও একটি রিকশা ভাঙচুর করে। এতে রিকশাচালক রাজু মণ্ডলের ডান হাত ভেঙে যায়। দুপুর ২টার দিকে কাকলীতে পর পর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় পিকেটাররা। র্যাবের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে আরো দু’-তিনটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করে।