দোয়ার মাধ্যমে ভাগ্যের পরিবর্তন সম্ভব
প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০১৩, ১৮:২৪
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (স.) বলেছেন দোয়াই ইবাদত। আল্লাহ তায়ালা মানুষ সৃষ্টি করেছেন। মানুষের প্রয়োজনীয় অনেক কিছু মানুষ না চাইতেই আল্লাহর কাছ থেকে পেয়ে থাকেন, এটা আল্লাহর অশেষ রহমত। আর মানুষের প্রয়োজনীয় এমন অনেক কিছু আছে যার জন্য মানুষকে আল্লাহর কাছে সর্বদা চাইতেই হয়, এই চাওয়ার নামই হচ্ছে দোয়া। মানুষ তার দৈনন্দিন জীবনে অনেক বিপদ-আপদ অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়, যার থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করে। এই দোয়া হাত তুলে করতে হবে এমন কোন কথা নেই, যখন যা দরকার ছোট-বড় সকল প্রয়োজনের জন্য আল্লাহর কাছে একাগ্রচিত্তে চাওয়াই দোয়া। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আমার নিকট চাও আমি তোমাদেরকে দেব’। আল্লাহর কাছে বান্দা কিছু চাইলে আল্লাহ তাতে খুশি হন, হাদীসে আছে ‘আল্লাহর কাছে দোয়া অপেক্ষা অধিক প্রিয় জিনিষ আর কিছুই নেই’। অতএব দোয়া থেকে বিরত থাকা কোন বুদ্ধিমানের কাজ নয়। আল্লাহ সর্বশক্তিমান, তার কাছে সকল ক্ষমতাই আছে বান্দার সকল প্রয়োজন মিটানোর। আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস করে মনে প্রাণে তার প্রতি ঈমান এনে খুব আর্জির সাথে মন দিয়ে কাতর স্বরে জড়োসড়ো হইয়া আল্লাহর কাছে দোয়া চাইলে আল্লাহ তাকে খালি হাতে ফেরান না। চাইলেই যে সব পাওয়া যায় তা ঠিক নয়, মানুষের চাওয়ার মধ্যে অনেক ভুল আছে। যখন মানুষ রাগান্বিত, ক্রোধে খারাপ চায়, তখন সে বান্দা চাইলেই আল্লাহ তাকে তা দিবেন না। আবার অনেক সময় দুনিয়ার প্রয়োজন এমন জিনিষের জন্য কিছু চাইলে তা বান্দার জন্য কখনও উপকারী হয়, আবার কখনও অপকারীও হয়, কিন্তু বান্দা তা জানে না। সে গায়েবানা শুধু আল্লাহ তাআলার আছে, তাই আল্লাহ উপকারী হলে তা বান্দাকে দান করেন, অপকারী হলে নয়। আমরা দোয়া করার ক্ষেত্রে নানা অবহেলা ও বাহানা করে থাকি বা দোয়া করার জন্য নির্দিষ্ট করে নামাজের পরের সময়টাই বেচে নিয়েছি। কিন্তু আল্লাহ বলেন, আমার কাছে দোয়া চাওয়ার কোন নির্দিষ্ট সময় নাই। যখন যে মুহূর্তে যার যা প্রয়োজন হবে তোমরা তাই আমার কাছে চাইবে। দোয়ার প্রকৃত হাকীকত কি? দোয়ার প্রকৃত হাকীকত হল বান্দার প্রয়োজনে একাগ্রচিত্তে এক ধ্যানে, এক মনে আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রেখে (যে একমাত্র আল্লাহই প্রয়োজন মিটানোর মালিক) আল্লাহর কাছে মনে মনে বা মুখে কিছু চাওয়া, এরকম দোয়া করিয়া দেখ আল্লাহ দেন কিনা। হাদীসে আছে রসূল (স.) বলেন, ‘দোয়া সর্বাবস্থাই উপকারে আসে’, সুতরাং হে আল্লাহর বান্দাগণ, তোমরা খুব বেশি করে দোয়া কর। রসূলুল্লাহ (স.) আরও বলেন, আল্লাহ তায়ালার নিকট বান্দার দোয়া কবুল হয়, যদি গোনাহর বা আত্মীয়তা ছেদনের দোয়া না করা হয় এবং সে তাড়াহুড়া না করে। হুযুরের কাছে আরয করা হল, ‘ইহা রসূলুল্লাহ তাড়াহুড়া অর্থ কি? হুজুর ফরমাইলেন, তাড়াহুড়া অর্থ এই যে, দোয়া করার পর দোয়া প্রার্থী বলে যে কতবার দোয়া করলাম কিন্তু দোয়া কবুল হতে দেখলাম না, এরূপ বিরক্ত হয়ে দোয়া করা হতে বিরত থাকা। এই হাদীস দ্বারা বুঝা যায় যে, যদিও দোয়া কবুল হচ্ছে না বলে মনে হয় তবু রীতিমত দোয়াতে মশগুল থাকা চাই, কখনও দোয়া হতে বিরত থাকা উচিত নয়। আল্লাহর প্রতি বিরক্ত বোধ হলে তার ঈমান চলে যাওয়ার ভয়ও রয়েছে। কুরআনে ও হাদিসে আল্লাহ আমাদের এমন অনেক দোয়াই শিখিয়ে দিয়েছেন যা আমাদের প্রতিদিন পড়তে হয় এসব দোয়া দ্বারা দুই ধরনের উপকার হয়, যেমন দোয়া চাওয়াতে আল্লাহ তায়ালা খুশি হন অন্যটি হল এই দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর শোকরানা আদায় হয়ে যায়।