এই খোরশেদ সেই খোরশেদ নয়

পুলিশের ভুলে অন্য খোরশেদ পরীক্ষা দিচ্ছে কারাগারে

এবারের আলীম পরীক্ষার্থী খোরশেদ আলম । মেধাবী এ ছাত্রের পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিল স্বাভাবিক নিয়মেই। কিন্তু পুলিশের একটি ভুলে খোরশেদকে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে জেলখানার চার দেয়ালের বন্দী জীবনে। পুলিশের একটি ভুলে তার স্বপ্নীল জীবন হয়ে উঠছে অন্ধকারাচ্ছন্ন। নিরপরাধ এ খোরশেদের বিরুদ্ধে ভুল করে পুলিশ দিয়েছে ১৩টি মামলা। যার মধ্যে দ্রুত বিচার আইনের ৫টি মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রও (চার্জশিট) গঠন করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, এ খোরশেদই সেই খোরশেদ যিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাধারণ সম্পাদক ও ১৩ মামলার আসামি। কিন্তু পুলিশের ওয়ান্টেড লিস্টে খোরশেদের নামের পাশে যে ছবি রয়েছে তার সঙ্গে বিন্দু পরিমাণ মিল নেই আলীম পরীক্ষার্থী খোরশেদের। নেই বয়সের সামঞ্জস্যতাও। যদিও পুলিশ বলছে আমরা মামলার আসামি খোরশেদেকে গ্রেপ্তার করেছি। কিন্তু এ নিয়ে বিশেষ অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ ভুল করলেও নিরপরাধ খোরশেদকেই এখন দায়ী করে তাকে ফাঁসিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। আর সে ভুলে পার পেয়ে যাচ্ছে প্রকৃত অপরাধী খোরশেদ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৪ মার্চ বক্তাবলী খেয়াঘাট থেকে পুলিশ যে খোরশেদকে গ্রেপ্তার করেছে তার বয়স ২০ বছর। সে এবছর বক্তাবলী ইসলামী সিনিয়র আলীম মডেল মাদ্রাসা থেকে আলীম পরীক্ষার্থী। অপরদিকে পুলিশের খাতায় তালিকাভুক্ত ১৩ মামলার আসামি শিবির নেতা খোরশেদের বয়স ২৮ বছর। অনেকেই জানান, মহানগর শিবিরের সাধারণ সম্পাদক প্রকৃত খোরশেদের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থানার বালুচর ইউনিয়নের মুরাদনগরে। সেই খোরশেদের বাবার নাম নুর মুন্সী। গত নভেম্বরে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা-পুলিশের মোস্ট ওয়ান্টেডকৃত ৪২ জন শিবির ক্যাডার ছবির মধ্য এ খোরশেদের ছবি রয়েছে। যদিও এ ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আকতার হোসেন জানান, আমরা মামলায় অভিযুক্ত খোরশেদকে গ্রেপ্তার করেছি। গ্রেপ্তারকৃত খোরশেদের ঠািকানা আর মামলায় আসামি খোরশেদের ঠািকানার মিল রয়েছে।