ভূমিহীন কৃষকের সংখ্যা বাড়ছে

কৃষিপ্রধান এ দেশের প্রধান দুটি উপকরণ ভূমি ও কৃষক। ভূমি ছাড়া কৃষি যেমন অসম্ভব, তেমনি কৃষক ছাড়া কৃষিকর্ম। ভূমি ও কৃষক যেন একটি অন্যটির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সম্প্রতি কৃষিশুমারি থেকে জানা গেছে, ভূমিহীন কৃষক পরিবারের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। অন্যদিকে কৃষি জমি হারিয়ে যাচ্ছে অকৃষিজ খাতে। বর্তমানে আমাদের দেশে মোট পরিবারের সংখ্যা ২ কোটি ৮৬ লাখ ৭০ হাজার। এর মধ্যে ৩৩ লাখ ১০ হাজার পরিবার শহরে এবং ২ কোটি ৫৩ লাখ ৬০ হাজার পরিবার গ্রামে বসবাস করে। ১৯৮৪ সালে দেশে ভূমিহীন কৃষি পরিবারের সংখ্যা ছিল ১১ লাখ ৯৮ হাজার। ১৯৯৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ লাখ ১৫ হাজার। ২০০৮ সালে ভূমিহীন কৃষি পরিবারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩২ লাখ ৫৬ হাজার। (সূত্র : কৃষিশুমারি, ২০০৮) তার মানে কৃষক তার ভূমির মালিকানা হারাচ্ছে। এভাবে ভূমিহীন কৃষক পরিবারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে পড়বে। ভূমিহীন কৃষক ও তার পরিবারের ভাগ্যে কী ঘটবে? গ্রাম থেকে এসব পরিবারের একটি অংশ বিতাড়িত হয়ে ভাগ্যান্বেষণে শহরে আসবে। আরেকটি অংশ গ্রামে থেকে পুঁজিবাদি কৃষকের জমিতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করবে। আরেকটি আশঙ্কাজনক তথ্য হচ্ছে, প্রতি বছর ১ শতাংশ হারে কৃষিজমি কমছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কীভাবে কমছে? বর্ধিত জনসংখ্যার জন্য ঘরবাড়ি নির্মাণ, শিল্পায়ন, শহরায়ন, বনভূমি উজাড়, নদী, খাল-বিল, পুকুর-ডোবা ইত্যাদি অপরিকল্পিতভাবে ভরাট করা। ভূমি কমে গেলে ভূমিহীন কৃষকের সংখ্যা বেড়ে যাবে, এটা সহজ কথা। জটিল কথাটি হলো, এর নির্মম শিকার হচ্ছে দরিদ্র কৃষকরা। এখন সময় এসেছে কৃষিজমি ও দরিদ্র কৃষকদের রক্ষা করার। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা এমনিতেই হুমকির মধ্যে রয়েছে। আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে পড়লে খাদ্যশস্যের দাম দ্বিগুণ অথবা তিনগুণ বেড়ে যাবে। খাদ্যশস্যের জন্য আমাদের অন্য দেশের ওপর নির্ভর করতে হবে। ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বাড়বে। দেশের অর্থনীতি বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়বে। কৃষি যে দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড, সেটা বোঝার সময় এসেছে। কৃষকদের বাঁচিয়ে রাখার কথা এখনই ভাবতে হবে রাষ্ট্রযন্ত্রকে। কৃষিজমিকে চিহ্নিত করতে হবে। কৃষিজমিকে অকৃষিজ খাতে চলে যাওয়া রুখতে প্রয়োজনীয় আইন করতে হবে। ভূমি ও দরিদ্র কৃষক বাঁচিয়ে রাখার দায় সবার। মনিরুজ্জামান কবির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঢাকা