ফটিকছড়িতে ব্যাপক সংঘর্ষ গুলি, তিনজন নিহত
চট্টগ্রাম অফিস ও ফটিকছড়ি সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৩৩
ফটিকছড়ির ভুজপুরে ছাত্রশিবির হেফাজতে ইসলামসহ এলাকাবাসীর সাথে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ভয়াবহ সংঘর্ষে ৩ জন নিহত, অর্ধশতাধিক গুলিবিদ্ধ এবং শতাধিক আহত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সংঘর্ষে হাটহাজারী সার্কেলের এএসপির গাড়ি, দুটি বিজিবির গাড়িসহ শতাধিক মোটর সাইকেল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। গতকাল বিকেল ৪টা থেকে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার অঞ্জনা খান মজলিশ সমগ্র ভুজপুর ইউনিয়নে অনির্দিষ্ট কালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেন।
গতকাল বেলা ১১টা নাগাদ গত নির্বাচনে মহাজোট প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এটিএম পেয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে উপজেলার আজাদী বাজার থেকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ডাকা হরতালের বিরুদ্ধে প্রায় ৫ শতাধিক মোটর সাইকেল ও অন্যান্য গাড়ি নিয়ে হরতাল বিরোধী র্যালি বের করা হয়। গাড়ি বহরটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বেলা ২টা নাগাদ ভুজপুর ইউপির কাজিরহাট বাজারে গেলে সেখানে কে বা কারা মাইকে থেকে ঘোষণা করে ছাত্রলীগের ছেলেরা বাজারে অবস্থিত কাজিরহাট বড় মাদ্রাসায় হামলা চালিয়েছে, মসজিদে ইট পাটকেল নিক্ষেপ এবং মাদ্রাসার মুহতামিম জুনায়েদ বিন জালালকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এমন মিথ্যা ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে এলাকার ছাত্রশিবির কর্মী, মাদ্রাসার হেফাজতে ইসলামের সমর্থক এবং হাজার হাজার গ্রামবাসী দা কিরিচ ইত্যাদি নিয়ে ছাত্রলীগের মোটর র্যালির উপর হামলা চালায়। এতে দিশাহারা হয়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীরা দিগ্বিদিক ছুটাছুটি করতে থাকে এবং পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু তারা এলাকাবাসীর বেষ্টনীর মধ্যে আটকা পড়ে। অবস্থা বেগতিক দেখে ভুজপুর থানা পুলিশ টিয়ারসেল ও গুলিবর্ষণ শুরু করে। কিন্তু পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে ফটিকছড়ি সদর থেকে এক প্ল¬াটুন বিজিবি, ফটিকছড়ি থানা পুলিশের একটি দলও ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু এতেও পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে বিজিবি ও পুলিশ কয়েক শ’ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করলে কমপক্ষে ৫০ জন গ্রামবাসী এবং শিবির ও হেফাজত সমর্থক গুলিবিদ্ধ হয়।
অপরদিকে, শিবির হেফাজত এবং গ্রামবাসী মিলে আটকাপড়া ছাত্রলীগ কর্মীদের যাকে যেখানে পেয়েছে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। আহত ছাত্রলীগ কর্মীরা আশপাশের বিভিন্ন বাড়ি এবং পাশের ব্রিক ফিল্ডগুলোর লেবার শেডে আশ্রয় নেয়। এলাকাবাসী এটিএম পেয়ারুল ইসলামের মাইক্রোবাস, দুটি বিজিবির গাড়ি, হাটহাজারী সার্কেলের এএসপি আ ফ ম নিজাম উদ্দিনের গাড়ি, ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করে। সেই সাথে বেশ কয়েকটি ট্রাক, এবং ছাত্রলীগ কর্মীদের শতাধিক মোটর সাইকেল ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয়। এটিএম পেয়ারুল ইসলামসহ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা বিজিবি ও পুলিশ প্রহরায় আত্মরক্ষা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা নাগাদ চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী আফিসার প্রমুখ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছেন। সংঘর্ষ যখন কাজিরহাট বাজার হারুয়ালছড়ি, পার্শ্ববর্তী পাইন্দং পর্যন্ত ৭/৮ কিমি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তখন আহতদের উদ্ধার করাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। সাধারণ লোকজন ভয়ে ফটিকছড়ি সদরে পর্যন্ত দোকানপাট বন্ধ করে বাড়ি চলে যায়। আহতদের এনে চিকিত্সা করার মত কোন যানবাহন পাওয়া যাচ্ছিল না। শতাধিক আহত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীকে ফটিকছড়ি সদরের সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ভুজপুর ন্যাশনাল স্কুলের সামনে দুই ছাত্রলীগ কর্মীকে কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে ফেলে রাখা হয় বলে জানা গেছে। তবে তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ফটিকছড়ি উপজেলা এলাকার পুলিশের এসি সার্কেল নিজাম উদ্দিন জানান, মোটর র্যালি হতে মসজিদে ইট পাটকেল নিক্ষেপ, অগ্নিসংযোগসহ অন্যান্য গুজব ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে চারদিক থেকে এলাকাবাসী ছুটে আসে। রাস্তার দুই পাশে খোলা এলাকা হওয়ায় এলাকাবাসীর হামলায় র্যালিতে অংশ নেয়া আওয়ামী লীগের লোকজন মোটর সাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন ফেলে আত্মরক্ষার চেষ্টা করে।
এ সময় এলাকাবাসী প্রায় শতাধিক গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এসি সার্কেল জানান, র্যালিতে পুলিশ থাকলেও এতো লোকের হামলার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে যায়। পরে অবশ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।