খাদ্যে বিষক্রিয়ায় বাকৃবির অর্ধশত ছাত্রী হাসপাতালে
প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৩৮
খাদ্যে বিষক্রিয়ায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রায় অর্ধশত ছাত্রী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত বুধবার রাতে হলের ডাইনিংয়ের খাবার খাওয়ার পর তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানিয়েছেন ছাত্রীরা। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, খাদ্যে বিষক্রিয়া নয়, বরং তীব্র গরমের কারণে ছাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের ছাত্রীরা ডাইনিংয়ে রাতের খাবার খান। রাত সাড়ে ১০ টার দিকে প্রায় ২৫ জন ছাত্রী পেটে সমস্যা অনুভব করেন এবং বেশ কয়েকজন অনবরত বমি করতে থাকেন। অবস্থার আরো অবনতি হলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ার সেন্টারে ভর্তি করা হয়। হেলথ কেয়ার সেন্টারের কর্তব্যরত চিকিত্সক তাদের পরীক্ষা করে উন্নত চিকিত্সার জন্য ওই রাতেই ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে আরও প্রায় ৩০ জন ছাত্রীকে অসুস্থাজনিত কারণে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরে সেখান থেকে তাদেরকে ময়মনসিংহ শহরের স্পেশাল কলেরা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তাদের চিকিত্সা চলছে বলে জানিয়েছেন চিকিত্সকরা।
এদিকে খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণেই ছাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন চিকিত্সকরা। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তীব্র গরমের কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। একইভাবে ডাইনিংয়ের দুইজন কর্মচারীও অসুস্থ হয়েছেন বলেও জানা গেছে।
ছাত্রীদের অসুস্থতার জন্য হলের আবাসিক ছাত্রীরা অপরিষ্কার ডাইনিং ও নিম্নমানের খাবারকে দায়ী করেছেন। ছাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, এ ব্যাপারে তারা হল প্রভোস্ট ও হাউজ টিউটরকে কয়েকবার জানানোর পরেও তারা কোন ব্যবস্থা নেননি। তাদেরকে পচা মাছ ও সবজি খাওয়ানো হচ্ছে বলে ছাত্রীরা অভিযোগ করেছেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি এন্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান জানান, ডাইনিংয়ের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিম্নমানের পচাবাসি খাবার এবং দূষিত পানি পান করার ফলে ছাত্রীরা অসুস্থ হয়ে থাকতে পারে।
বাকৃবির হেলথ কেয়ার সেন্টারের চিফ মেডিক্যাল অফিসার ডা. ফয়েজ আহমদ বলেন, ‘আমরা রাত থেকেই কাজ করে যাচ্ছি। যারা হলে আছে তাদেরকে স্যালাইন, ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। সকলকে বিশুদ্ধ পানি ও স্যালাইন খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।’ এ বিষয়ে শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের প্রভোস্ট ড. একেএম শামসুদ্দিন বলেন, ‘আমি বিষয়টি জানার পর থেকেই অসুস্থ ছাত্রীদের সাথে হাসপাতালে আছি।