চুলপড়া সমস্যা-২৯
ডা: মোড়ল নজরুলইসলাম চুলপড়া, চর্মরোগ ও এলার্জি এবং যৌন সমস্যা বিশেষজ্ঞ লেজার এন্ড কসমেটিক সার্জন বাংলাদেশ লেজার স্কিন সেন্টার বাড়ী-৩৯ (আম্বালা কমপ্লেক্স) রোড-২ ধানমন্ডি, ঢাকা।
প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০১৩, ২০:৫৪
আমি সব সময় বলে আসছি। চুলপড়া কোন সমস্যা নয়। শরীরের ইন্টারনাল নানা সমস্যা, হরমোনের সমস্যা, বংশগত কারণ, ক্র্যাশ ডায়েটিং, ইনফেকশন, হাই এন্টিবায়োটিক, দীর্ঘ মেয়াদী মানসিক চাপ সহ নানা কারণে চুলপড়তে পারে। আর সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হচ্ছে চুলপড়ার কোন চিকিত্সা নেই। কি কারণে চুলপড়ছে সেই কারণ যদি সনাক্ত করা যায় তাহলে চুলপড়া কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। কিন্তু বেশীরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় রোগীরা একের পর এক ডাক্তার চেঞ্জ করে। পরিবর্তন করে ওষুধ। এতেও কোন সমস্যা ছিলোনা। ইদানিং চিকিত্সা, ডাক্তার, ওষুধপত্র সব কিছুর ওপর এক প্রকার বীতশ্রদ্ধ হয়ে অনেক তরুণ-যুবক আজ কাল মাথা ন্যাড়া করে ফেলছেন অথবা চুল একেবারে ছোট করে কেটে নিচ্ছেন। এমনকি অনেক মহিলাও চুলপড়ার কারণে চুল একেবারে ছোট করে ফেলছেন। বেশীরভাগ লোকের ধারণা মাথা ন্যাড়া করলে বা চুল ছোট করে কাটলে চুল মোটা হয়ে গজায় এবং চুলপড়া বন্ধ হয়। কিন্তু বাস্তবে এ ধারণা বিজ্ঞান সম্মত নয়। মাথা ন্যাড়া করা বা চুল ছোট করে কাটলে চুল মোটা হয় বা চুল কম পড়ে এটা মোটেও ঠিক নয়। আসল সত্য হচ্ছে চুলের কান্ড গোড়ার দিকে মোটা থাকে এবং আগার দিকে অপেক্ষাকৃত সরু থাকে। তাই মাথা ন্যাড়া করে ফেললে যে চুল গজায় তা খানিকটা মোটা মনে হয়। আর মাথা ন্যাড়া করার পর প্রতি একমাসে চুল মাত্র এক সেন্টিমিটার বাড়ে। তাই প্রথমে গজানো এই চুল মোটা ও শক্ত মনে হয়। কিন্তু চুলপড়া কমা বাড়ার সঙ্গে মাথা ন্যাড়া করার কোন সম্পর্ক নেই। তাই চুল পড়লে মাথা ন্যাড়া না করে বরং চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চুলপড়ার কারণ জানা জরুরী। এরপর চুলপড়ার ধরণ ও কারণ অনুযায়ী চিকিত্সা দেয়া গেলে অবশ্যই চুলপড়া কমতে পারে। গজাতে পারে নতুন চুল। তবে চুলপড়া সমস্যার ক্ষেত্রে কোন অবস্থাতেই অপচিকিত্সা করা ঠিক নয়। এতে চুল গজানো অথবা চুল পড়া কমার পরিবর্তে চুলের ক্ষতি বেশী হয়।