বর্ষবরণে বৈশাখী মেলার প্রস্তুতি, ব্যস্ত মৃিশল্পীরা
প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০১৩, ২১:০২
বাংলা নববর্ষ বরণে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৈশাখী মেলার প্রস্তুতি চলছে। আর সেই সঙ্গে নানা রকম খেলনা মাটির তৈজসপত্র তৈরিতে গত কিছুদিন যাবতই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মৃিশল্পীরা।
খুলনা অফিস থেকে এনামুল হক জানান, বাংলা বর্ষবরণে খুলনা মহানগরসহ জেলার বিভিন্ন জায়গায় বসবে বৈশাখী মেলা। বর্ষবরণ করতে শেষ মুহূর্তে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা। মেলা উপলক্ষে মৃিশল্পীরা তৈরি করছেন মাটি দিয়ে শিশুদের নানা রকমের খেলনা, ফুলের টব, ফুলদানি, পেনসিল ও কলমদানি, পুতুল, মাছ, পাখি, গরু-ছাগল, বাঘ-ভাল্লুক, গাছ, রকমারি ফল, করলা ও বিভিন্ন রকমের শো-পিসসহ নানা ধরনের সামগ্রী।
মৃত্ শিল্পীরা তাদের হাতের নিপুণ কারুকাজ রং তুলির মাধ্যমে দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। বাঙালির ঐতিহ্যবাহী মৃত্ শিল্পের এক সময় বিপুল কদর থাকলেও বর্তমানে এ শিল্প একটি উপেক্ষিত শিল্পে পরিণত হয়েছে। তবে ১লা বৈশাখ ও পূজা পার্বণের আগে খানিকটা সময়ের জন্য হলেও মৃত্ শিল্প তার হূতগৌরব ফিরে পায়, মৃত্ শিল্পীরা ব্যস্ত হয়ে ওঠে নানা রকম সামগ্রী তৈরিতে।
মৃত্ শিল্পীদের ভাগ্য উন্নয়নে খুলনা মৃত্ শিল্প উন্নয়ন সংস্থা দীর্ঘদিন কাজ করছে। এ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক অসীম কুমার পাল বলেন, খুলনার তিন উপজেলায় ৪ হাজার ৮৪৮ জন মৃত্ শিল্পী রয়েছেন। এর মধ্যে রূপসা উপজেলায় ১ হাজার ৭০৮ জন, বটিয়াঘাটা উপজেলায় ১ হাজার ৩০৫ জন ও ডুমুরিয়া উপজেলায় ১ হাজার ৮৩৫ জন। এছাড়াও খুলনার পার্শ্ববর্তী বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলাতেও মৃত্ শিল্পী রয়েছে। এদের মধ্যে বহু নারীও রয়েছেন। ডুমুরিয়া উপজেলার ধামালিয়া গ্রামের অরূপ কুমার পাল, সুবোধ পাল ও সন্ধ্যা পাল, চেঁচুড়ি গ্রামের শশধর পাল, দীপক পাল ও পার্বতী পাল বলেন, বর্ষবরণের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। শেষ মুহূর্তে চলছে মাটির তৈরি পণ্যসামগ্রী তৈরি ও তাতে রং করার কাজ।
কাউখালী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা জানান, বর্ষবরণের আয়োজনে ব্যস্ত কাউখালীর মানুষ। বাঙ্গালীর প্রাণের এই উত্সব উদযাপনে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন জায়গায় বসবে বৈশাখী মেলা। আর মেলাকে সামনে রেখে এখন রাতদিন ব্যস্ত সময় পার করছে পিরোজপুরের কাউখালীর উত্তর বাজার ও সোনাকুর গ্রামের মৃত্ শিল্পীরা।
উপজেলার উত্তর বাজার মৃত্ শিল্পপাড়ায় গিয়ে দেখা গেছে, আট বছরের শিশু সুমন পাল থেকে শুরু করে সত্তরোর্ধ সুধীর পাল পর্যন্ত সকলেই বিভিন্ন কাজে মহাব্যস্ত। নানা রকম মাটির তৈরি খেলনায় রং করায় ব্যস্ত রবিন পাল জানান, বৈশাখী মেলাকে সামনে রেখে মেলার দিনের জন্য তারা একেকটি পরিবার প্রায় আড়াই হাজার খেলনাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরি করেছেন। অর্ধেক খেলনায় রং করা হয়ে গেছে।
মাটির তৈরি জিনিসপত্রের মধ্যে রয়েছে হাঁড়ি-পাতিল, বাঘ, হরিণ, হাঁস, ময়ুর, হাতি, নৌকা, ঘোড়া, গরু, ঘর, ব্যাংক ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিমা। ছোট আকারের খেলনা একটি ১০ থেকে ১৫ টাকা দরে বিক্রি হবে। তবে বাহারি ও বড় আকৃতির অনেক খেলনা ৮০ থেকে ১শ’ টাকাতেও বিক্রি হবে বলে কুমাররা জানান। বছরের অন্যান্য দিনে তারা বেশ দুরাবস্থায় থাকলেও মেলা ও পূজা অর্চনা আসলেই কর্মমুখর হয়ে ওঠে চিরচেনা ঐতিহ্যময় প্রাচীন এই মৃত্ শিল্পপল্লী।