পদ্মা সেতুতে দুর্নীতি

আদালতের নির্দেশে কানাডার মিডিয়ায় শুনানির খবর প্রকাশ হচ্ছে না

কানাডার আদালতের নির্দেশে পদ্মা সেতুর দুর্নীতির শুনানি সম্পর্কিত কোন খবর সে দেশের মিডিয়ায় প্রকাশ হচ্ছে না। শুনানির প্রথমদিনই আদালতের কড়া নির্দেশ— মোশনের কোনো কনটেন্ট কোর্ট রুমের বাইরে যাবে না এবং তা প্রকাশ করা যাবে না। এই শর্তে উভয়পক্ষের আইনজীবীই সম্মতি দেন। প্রথমদিন সিবিসির দুইজন সাংবাদিক এজলাসে দাঁড়িয়ে খানিকটা আর্গুমেন্ট করলেন বিচারকের সঙ্গে। বিচারক ম্যালকম ম্যাকলয়েড এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘আই অ্যাম টেকিং ইওর আর্গুমেন্ট বাট নট চেঞ্জিং মাই ডিসিশনস ফর নাউ’। এরপর তিনি শুনানি মুলতবি করে দেন। এই ঘটনার পর এখন পর্যন্ত মামলার খবর কানাডার মিডিয়ায় দেখা যায়নি। তবে কোর্টে মূলধারার বেশ কিছু সাংবাদিককে শুনানি চলাকালে ল্যাপটপে নোট নিতে দেখা গেছে। অন্টারিও প্রদেশের এটর্নি জেনারেলের মন্ত্রণালয়ের মিডিয়া রিলেশন্স বিষয়ক সিনিয়র কো-অর্ডিনেটর ব্রেন্ডেন ক্রাউলি জানিয়েছেন, মামলাটির প্রাথমিক শুনানিকালে কোর্টে যে কেউ উপস্থিত থেকে কেবল তা অবলোকন করতে পারবেন। শুনানি শুরু ও শুনানি চলছে এমন সংবাদ মিডিয়ায় তুলে ধরা যাবে; কিন্তু তার বেশি কিছু না। কোর্ট রুমের দরজাতেও এ সংক্রান্ত নোটিস দেয়া আছে। আরসিএমপি, বিশ্বব্যাংক, বাংলাদেশ-কানাডা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা স্পর্শকাতরতার কারণে এ নিয়ে কোর্ট সংশ্লিষ্ট কোনো মিডিয়া কর্মকর্তাই মুখ খুলতে নারাজ। উল্লেখ্য, টরন্টোর ওল্ড সিটি হলের রুম ১২৫-এর একটি ফেডারেল প্লিয়া কোর্টে চলছে পদ্মা সেতুর দুর্নীতির শুনানি। এটি চলবে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত। এসএনসি-লাভালিন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের সাবেক আন্তর্জাতিক প্রকল্প বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশ এস শাহ এবং পরিচালক মোহাম্মদ ইসমাইলের বিরুদ্ধে কানাডার ‘করাপশন অব ফরেন অফিসিয়াল অ্যাক্ট’-এর অধীনে রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের উত্থাপিত দুর্নীতির বিষয়াদি আমলে নেয়া হয়েছে। বিচারপতি ম্যালকম ম্যাকলয়েডের কোর্টে কানাডা সরকারের পক্ষে ক্রাউন প্রসিকিউশন এবং বিবাদীপক্ষের আইনজীবীরা সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের নিজস্ব অবস্থান তুলে ধরায় নিয়োজিত রয়েছেন। এ শুনানি শেষেই অভিযোগের গুরুত্বের ভিত্তিতে বিচারকের সিদ্ধান্তে মামলাটি চূড়ান্ত বিচারের জন্য যাবে।