বান্দরবানে মারমাদের সাংগ্রাই উত্সব শুরু
মিলন চক্রবর্তী, বান্দরবান প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৫৬
বর্ণাঢ্য র্যালীর মাধ্যমে বান্দরবানে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই উত্সব শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবার পুরাতন রাজবাড়ি মাঠ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান বীর বাহাদুর এমপির নেতৃত্বে সাংগ্রাই র্যালী বের করা হয়। র্যালীটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালীতে মারমা, চাকমা, ত্রিপুরা, বম, চাকসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সব বয়সী নারী-পুরুষ অংশ নেয়। এসময় র্যালীতে অন্যদের মধ্যে নবনিযুক্ত বান্দরবান বোমাং সার্কেল চীফ রাজা ইঞ্জিনিয়ার উচপ্রু মারমা, জেলা প্রশাসক কেএম তারিকুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার কামরুল আহসান, পৌর মেয়র মোহাম্মদ জাবেদ রেজা, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ড. মাহে আলম, সাংগ্রাই উত্সব উদযাপন কমিটির সভাপতি অংচ মং মারমাসহ বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পরে পুরাতন রাজবাড়ি মাঠে শিশু-কিশোরদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা এবং বসস্ক পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও চলে পাহাড়ী তরুণ-তরুণীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মারমা সম্প্রদায়ের প্রধান সামাজিক উত্সব সাংগ্রাই’কে ঘিরে এবারও বান্দরবানে ৭ দিন ব্যাপী নানা অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। উত্সবের মধ্যে আরো থাকছে- রবিবার (১৪ এপ্রিল) উজানী পাড়াস্থ সাঙ্গু নদী চরে পবিত্র বুদ্ধমূর্তি স্নান অনুষ্ঠান। আগামী ১৫ ও ১৬ এপ্রিল হবে সাংগ্রাই উত্সবের মূল আকর্ষণ-দুদিন ব্যাপী জলকেলী উত্সব। সদর উপজেলার রেইছা থলি পাড়া, রোয়াংছড়ি উপজেলা হাইস্কুল মাঠ এবং পুরাতন রাজবাড়ি মাঠে তরুণ-তরুণীরা মেতে উঠবে জলকেলী বা মৈত্রী পানি বর্ষণ প্রতিযোগিতায়। জলকেলী উত্সবে তরুণ-তরুণীরা একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে ভাবের আদান-প্রদান করে। জলকেলীর আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে- পানি খেলায় বিবাহিত নারী পুরুষরা অংশ নিতে পারে না।
জলকেলী উত্সবের মাধ্যমে পাহাড়ী তরুণ-তরুণীরা সম্পর্কের সেতু বন্ধন তৈরি করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। জলকেলী দেখতে শত শত পাহাড়ী-বাঙালি নারী-পুরুষ এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকরাও ভীড় জমিয়েছে বান্দরবানে। জলকেলী উত্সবের সঙ্গে রয়েছে তৈলাক্ত বাঁশে আরোহন প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও। পাহাড়ী তরুণ-তরুণীরা নাচে গানে মাতাবেন উত্সব। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মারমা শিল্পী গোষ্ঠীসহ স্থানীয় শিল্পী গোষ্ঠীরা নাচ-গান পরিবেশন করবে। রাতে উজানী পাড়াস্থ বিসিক গলি, মধ্যমপাড়াস্থ ৬ নং গলি, জাদী পাড়া গলিসহ বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় সারিবদ্ধভাবে বসে তরুণ-তরুণী এবং শিশু-কিশোররা তৈরি করছে হরেক রকমের পিঠা। রাতব্যাপী পিঠা তৈরি করে পাড়া-প্রতিবেশী এবং ক্যায়াংএ ক্যায়াংএ বিতরণ করছে তরুণ-তরুণীরা। এছাড়াও কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ ক্যায়াংসহ পাড়া-মহল্লায় ক্যায়াংএ ক্যায়াংএ মঙ্গল প্রদ্বীপ প্রজ্বলন করা হবে। সাংগ্রাই উত্সব চলবে আগামী ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত।