বাইক্কাবিলের অভয়াশ্রম থেকে তিন কোটি টাকার মাছ লুট
নেছার উদ্দিন আহমেদ, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০১৩, ২২:১৬
সরকারঘোষিত দেশের একমাত্র মত্স্য অভয়াশ্রম হাইলহাওরের বাইক্কাবিলে গত চারদিনে কমপক্ষে তিনকোটি টাকার মাছ লুট হয়েছে। বাইক্কাবিলের চারপাশের শত শত গ্রামবাসী বিলের পানিতে দিনরাত মাছ ধরেছে। আইপেক প্রকল্প কর্মকর্তা,উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকেও লুটপাট বন্ধ করতে পারেনি। বিল মত্স্যশূণ্য হয়ে যাবার পর উপজেলা প্রশাসন শুক্রবার বিকালে বাইক্কাবিল এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে। বাইক্কাবিল মত্স্য অভয়াশ্রম সংশ্লিষ্ট আইপেক প্রকল্পের কর্মকর্তা এবং উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা জানান বিলের পানি হ্রাসজনিত পরিস্থিতি ও দিনের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে অল্প মাছ মরে পানিতে ভেসে উঠার পর কিছু লোক মরা মাছ ধরতে বিলে নামে। দেখাদেখি বুধবার বিকাল থেকে ধীরে ধীরে বাইক্কাবিল সংলগ্ন গ্রাম থেকে শত শত মানুষ বাইক্কাবিলে ঝাপিয়ে পড়ে। পলো, ট্যাটা, কোচ এমনকি রামদা ও লাঠি দিয়েও মানুষ মাছ ধরে। মৃগেল, রুই, কাতল, বোয়াল, শোল, গজার, শিং, মাগুর প্রভৃতি বিভিন্ন জাতের মাছ লুট হয়। লুণ্ঠিত মাছের প্রায় সবগুলোই ডিমওয়ালা এবং একেকটি রুই,মৃগেল ও বোয়াল মাছ ১০-১২ কেজি পর্যস্ত ওজনের ছিল। শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান,বৃহস্পতিবার থেকে বাইক্কাবিলের পাড়ে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও বিস্তীর্ণ বিলের ভিতর থেকে কয়েক হাজার লোককে বের করতে পুলিশ কার্যত ব্যর্থ হয়েছে।
এরপর শুক্রবার বিকাল থেকে সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। তবে ১৪৪ ধারা জারির পরেও বিলের বিভিন্ন কোণায় লুটেরারা তত্পর ছিল। উল্লেখ্য, বাইক্কাবিল মত্স্য অভয়াশ্রমে গত বছরের জুন মাসে মাছ চুরি ঠেকাতে উপজেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে। তখন পুলিশী অভিযানে বাইক্কাবিলের পাড় ও সংলগ্ন বিভিন্ন বাজার থেকে পোনা ও ডিমওয়ালা মাছ আটক এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে আটক ও জরিমানা করা হয়। এর জের ধরে শ্রীমঙ্গলে মত্স্য ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট ও প্রশাসনের নিকট স্মারকলিপি প্রদানের প্রেক্ষিতে তাত্ক্ষণিকভাবে শ্রীমঙ্গলের সহকারী কমিশনার(ভূমি) ও উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তাকে বদলী করে দেয়া হয়।