এই সময়ের ছড়া

পঁচিশে বৈশাখ

বছর ঘুরে আবার এল পঁচিশে বৈশাখ

নতুন করে শুনতে পেলাম নতুন দিনের ডাক।

নতুন মানে চির নতুন এমনই এক কবি

বাংলাভাষায় এঁকেছিলেন বিশ্বলোকের ছবি।

 

ঋষি-সাধক মহান কবি, তাঁর তুলনা তিনি

তাঁর কবিতায় বাংলাভাষা নতুন করে চিনি।

জমিদারের পুত্র হয়েও ছিলেন সাধারণ

সরলতায় বিশ্বাসে তাঁর শিশুর মতো মন।

 

গরিব-দুখী কৃষক প্রজার কল্যাণে সেই কবি

নোবেল প্রাইজে যা পেয়েছেন দিলেন ঢেলে সবই।

মহাজনের সুধের থাবায় কৃষক কুপোকাত

কৃষি ব্যাংকই গড়ে দিলেন তাই তো রবীন্দ্রনাথ।

 

নোবেল বিজয় করল কবির গীতাঞ্জলির গান

বিশ্বসভায় বাংলাভাষায় বাড়িয়ে গেলেন মান।

কাব্য-গানে সব বিষয়ে দারুণ পাকা হাত

বাংলা ছোটোগল্প—তারও জনক রবীন্দ্রনাথ।

 

ব্যক্তিগত চিঠিও হয় সাহিত্য-সম্পদ

অসাধারণ রবি ঠাকুর দেখালেন সে পথ।

নিত্যদিনের কান্না-হাসি সুখ-দুঃখের ছবি

এমন নিখুঁত আর কে আঁকেন? আছেন কোনো কবি!

 

লোভী জমিদারের থেকে উপেনরা নেয় ঋণ

তাদের মুক্তি চেয়ে গেছেন কবি চিরদিন।

কুমুর মতো দ্রোহী নারী সৃষ্টি করেন কবি

চিত্রাঙ্গদা আরেক দ্রোহী মুক্ত-নারীর ছবি।

 

মানবতার অপমানে উঠত কেঁদে প্রাণ

প্রতিবাদে ‘নাইট’ উপাধি করেন প্রত্যাখ্যান।

সোনার তরী ভরে গেছেন সোনার ফসল দিয়ে

বাংলা আজো ঋণী কবির সেই সম্পদ নিয়ে।

 

রবীন্দ্রনাথ গড়ে গেছেন দেশপ্রেমের ভিত

তাঁরই ভাষায় গাই প্রতিদিন জাতীয় সংগীত।