বারিধারায় লুঙ্গি মার্চ

রাজধানীর গুলশান বারিধারা আবাসিক এলাকায় লুঙ্গি পরে চলাফেরা নিষিদ্ধের প্রতিবাদে গতকাল শনিবার বিকালে লুঙ্গিমার্চ করেছেন তরুণ-তরুণীরা। ওই আবাসিক এলাকাসহ আশপাশের এলাকার কয়েকশ’ তরুণ-তরুণী লুঙ্গি পরে ওই লুঙ্গিমার্চে অংশ নেন। সম্প্রতি বারিধারা আবাসিক সোসাইটি লুঙ্গি পরে আবাসিক এলাকায় রিকশা চালানোসহ চলাফেরা নিষিদ্ধ করে। এর প্রতিবাদে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসাবে তরুণ-তরুণীরা লুঙ্গি পরে বনানী মাঠে জমায়েত হতে থাকে। স্কলাস্টিকাসহ রাজধানীর নামীদামী স্কুল-কলেজ, সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কেউ সাইকেল, কেউ রিকশা চালিয়ে লুঙ্গিমার্চে যোগ দেন। লুঙ্গিমার্চটি বারিধারার দিকে গেলে পুলিশ এতে বাধা দেয়। এ সময় বারিধারার বাসিন্দা রুবাইয়া আহমদ পুলিশকে বলেন, ওরা আমার অতিথি, সবাই আমার বাসায় যাবে। শুরু হয় পুলিশের সঙ্গে বাক-বিতণ্ডা হয়। রুবাইয়া আহমদ পশু প্রেমীদের সংগঠন অভয়াবন্ধের প্রধান নির্বাহী। এসময় পুলিশী ব্যারিকেডের সামনে প্রায় এক ঘন্টা তরুণ-তরুণীরা অবস্থান করেন। গত শুক্রবার খুলনায় ভারতীয় হাইকমিশনের গাড়ির কাছে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় বারিধারা কূটনৈতিক এলাকায় গতকাল ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এ বিষয়টি পুলিশ কর্মকর্তারা লুঙ্গিমার্চে অংশগ্রহণকারীদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। এতেও কোন কাজ হয়নি। পরে উপ-কমিশনার (গুলশান জোন) লুত্ফুল কবীর সেখানে আসেন। তিনি তরুণ-তরুণীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেন। এসময় তরুণ-তরুণীরা তাকে বলেন, লুঙ্গি আমাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক। ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা লুঙ্গি পরে যুদ্ধ করেছিলেন। লুঙ্গি নিষিদ্ধ করে স্বাধীনতা যুদ্ধকে অবমাননা করা হয়েছে। এটা মেনে নেয়া যায় না। তারা বলেন, আমরা আবাসিক এলাকায় গিয়ে সোসাইটির কর্মকর্তাদের জানিয়ে দিতে চাই, লুঙ্গি এদেশের রক্ত ও মাটির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাদের কথা শোনার পর লুত্ফুল কবীর লুঙ্গিমার্চকারীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, সংবিধানে লুঙ্গি পরা যাবে না, কিংবা কে কি পোশাক পরবে এ নিয়ে কোথাও কোন ধরনের বিধান নেই। লুঙ্গি পরে যে কোন স্থানে চলাফেরা করা যাবে। বারিধারা আবাসিক এলাকা দিয়েও চলাফেরা করা যাবে। লুঙ্গি পরে চলাফেরা করা যাবে না, এটা বলার এখতিয়ার কারো নেই। তিনি বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিলে লুঙ্গিমার্চে অংশগ্রহণকারীরা বাড়ি ফিরে যান। সামাজিক সংগঠন ‘ভলেন্টিয়ার ফর বাংলাদেশে’র সভাপতি করভী রাখসান্দ বলেন, রিক্সাওয়ালাদের ৩০০ টাকা দিয়ে ট্রাউজার কিনতে বাধ্য করা হয়েছে। যারা দিন আনে দিন খায় তাদের ওপর এমন সিদ্ধান্ত নির্যাতন ছাড়া আর কিছুই নয়। গতকাল ওই সংগঠনের সদস্য তরুণ-তরুণীরা সবাই হলুদ লুঙ্গি পরে ও হলুদ উত্তরীয় গায়ে চড়িয়ে লুঙ্গি মার্চে আসেন। বারিধারার বাসিন্দা জার্মান নাগরিক সুমাইয়া আয়ার লুঙ্গি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এটা অত্যন্ত আরামদায়ক পোশাক, এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার কোনো যুক্তি নেই। রাজধানীর গুলশান থেকে নাফিসা লুঙ্গি মার্চে অংশ নিতে আসেন। তিনি বলেন, লুঙ্গি নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশে স্বাধীনতা যুদ্ধকে অবমাননা করা হচ্ছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা লুঙ্গি পরে যুদ্ধে নেমেছিলেন। ডাউন টাউন রাইটারর্স’র পক্ষ থেকে রাজধানীর খিলগাঁও থেকে আসা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার আসিফ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের মাটিতে এই ধরনের সিদ্ধান্ত খুবই দুঃখজনক। লুঙ্গি মার্চে অংশ নেয়া ইমরান হোসাইন ইমন লুঙ্গিকে জাতীয় পোশাকের মর্যাদা দেয়ার দাবি তোলেন। তিনি যুক্তি দেখান এতে সহজে বাতাস প্রবেশ করে, এটি পড়তে আরাম এবং চলাফেরায় ঝামেলাহীন।