নববর্ষের নতুন ভোরে জেগে উঠি নতুন প্রত্যয়ে

স্বাগত ১৪২০ বঙ্গাব্দ। প্রতি বছরের শুরুতেই আমরা আশার কথা বলি, প্রত্যাশার বাণী উচ্চারণ করি”গত বছরের সব জঞ্জাল ধুয়ে মুছে যাবে, দুঃখ-বেদনা, হতাশা-দুর্দশা, গ্লানি দূর হবে। বছরের শুরুতে আমাদের এ রকম প্রত্যাশা সারা বছরেই প্রত্যাশিত রূপ লাভ করে না বরং নতুন নতুন দুর্দশা-হতাশা গ্রাস করে আমাদের ব্যক্তি ও সামাজিক জীবন তথা রাষ্ট্রকে। অতীতের গ্লানি ও সংকীর্ণতা আমাদেরকে আরো বেশি করে চেপে ধরে। যেমন গত বছর আমাদের জাতিকে কলংকিত করেছে সংখ্যালঘু বৌদ্ধ ও হিন্দু সমপ্রদায়ের বাড়িতে, উপাসনালয়ে আগুন দিয়ে ছারখার করার ঘটনা। এক শ্রেণির দুর্বৃত্ত তাণ্ডব চালিয়ে নৃশংসভাবে মানুষ খুন করেছে। তারা বাদ দেয়নি জনগণের নিরাপত্তা প্রদানকারী পুলিশবাহিনীকেও। বিভিন্ন স্থাপনায় নাশকতাও চালিয়েছে তারা। আবার এটাও সত্য”গত বছরেই জাতির কলংক মোচনের সূচনা হয়েছে। একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দুই ব্যক্তি আদালতে দণ্ডিত হয়েছে। পহেলা বৈশাখ, বাংলা বছরের প্রথমদিন বর্ষবরণের উত্সব বাঙালি জাতির অবিনাশী অহংকার, অসামপ্রদায়িক চেতনার ধারক। আবহমান কাল থেকে চলে আসছে বর্ষবরণ উত্সব। বর্ষবরণের এই উত্সবটি কোনো ধর্মের নয়, কোনো সমপ্রদায়ের নয়। এটি সার্বজনীন উত্সব। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এবার আরো ব্যাপকভাবে বর্ষবরণের অসামপ্রদায়িক উত্সবটি পালিত হওয়া উচিত। প্রগতিকামী, মুক্তমনের মানুষদের প্রতি আহ্বান আসুন, আবহমান বাংলার লোকজ সংস্কৃতির বিস্তার ও অসামপ্রদায়িক চেতনার ধারা সমুন্নত রাখতে ১৪২০ বঙ্গাব্দের নতুন ভোরে জেগে উঠি নতুন প্রত্যয়ে। বাংলাদেশের মানুষ অসামপ্রদায়িক চেতনায় উদ্ভাসিত, সেটি আরেকবার প্রমাণের সময় এসেছে, কারণ ধর্মান্ধ সামপ্রদায়িক গোষ্ঠী মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ যে অসামপ্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে, সেটি যে কোনো মূল্যে ধরে রাখতে হবে। ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’” এই চেতনা সবার মাঝে জাগরুক থাকুক। রজতকান্তি বর্মন, গাইবান্ধা