একাদশ শ্রেণির জীববিজ্ঞান প্রস্তুতি

জীববিজ্ঞান প্রথমপত্র অলোক কুমার মিস্ত্রী বন্যপ্রাণী গবেষক (প্রভাষক) জীববিজ্ঞান বিভাগ প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ আমি তোমাদের জীববিজ্ঞান প্রথমপত্রের অনুচ্ছেদ ২ ভাইরাস (Viruses) - বিষয়ের ওপর সৃজনশীল রচনামূলক প্রশ্নোওর উপস্থাপন করব, যা ফাইনাল ২০১৪ সালের (সকল বোর্ড) পরীক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সৃজনশীল প্রশ্ন ঃ নিচের চিত্রটি লক্ষ কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও। (ক) ভাইরাসটির পূর্ণ নাম কী ? (খ) এর ফায নামকরণেরে কারণ কী ? (গ) ভাইরাসটির গঠন বর্ণনা কর। (ঘ) এর লম্বচ্ছেদ-এর চিহ্নিত চিত্র অংকন কর। সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর ঃ (ক) চিত্রে প্রদর্শিত ভাইরাসটি ব্যাকটেরিওফায। (খ) মূলত ফায একটি গ্রীক শব্দ। যার অর্থ হলো ভক্ষণ করা অর্থাত্ “to eat” প্রকৃত অর্থে ফায হলো এমন এক ভাইরাস যা জীবদেহে অবস্থানকারী রোগসৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে দেয়। ফায-এর জেনেটিক বস্তু ব্যাকটেরিয়ার দেহে প্রবেশ করে এবং এক সময় ব্যাকটেরিয়া কোষটি ফেটে বের হয়ে আসতে সহায়তা করে। যে সমস্ত ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে তাদেরকে সাধারণত ব্যাকটেরিওফায বলা হয়। তাই এক্ষেত্রে বলা যায় যে, ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমনণ করে বলেই ভাইরাসটির নামকরণ ফায করা হয়েছে। (গ) ব্যাকটেরিওফায এর গঠন অতীব জটিল। এর দৈহিক গঠন একটি অতি ক্ষুদ্রাকৃতি ক্ষুদ্র ব্যাঙাচি বা মানব শুক্রানুর মতো হয়ে থাকে। আর এ দেহটিকে দুটি অংশে ভাগ করা যায় যথাঃ ১. মাথা (Head) ২. লেজ (Tail) ১। মাথা (Head) ঃ এই ভাইরাসের মাথাটি সাধারণতঃ স্ফীত ও ষড়ভূজাকৃতির। দেখতে প্রিজমের মতো প্রায়। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৩ nm এবং প্রস্থ প্রায় ৬৫ nm। এই স্ফীত ও ষড়ভূজাকৃতির মাথার বাইরের অংশে প্রোটিন আবরণ ও অভ্যন্তরে দ্বিসূত্রক DNA সূত্রক প্যাঁচানো অবস্থায় থাকে। এতে প্রায় ১৫০ টির মতো জিন রয়েছে এবং মাথার বেশির ভাগ অংশই ফাঁপা বলে পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। ২। লেজ (Tail) ঃ ব্যাকটেরিওফায ভাইরাসের মাথার ঠিক নিচে একটি লেজ। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১০০ nm ও ব্যাস প্রায় ২৫ nm । লেজের আবরণটি দৃঢ় ও সংকোচনশীল। কোন কোন ফায এর লেজ নরম,নমনীয় ও আবরণবিহীন। তবে অনেকের মতে, লেজের দৃঢ় আবরণের ভিতরে একটি সংকোচনশীল প্রোটিন থাকে। এ প্রোটিনে লাইসোসোম থাকে। লেজের ভিতরে কোন DNA থাকে না। লেজ ও মাথার সংযোগ স্থলে একটি কলার অবস্থিত। লেজের নিচের প্রান্তটি কিছুটা প্রশস্ত হয়ে বেস প্লেট তৈরি করেছে। বেসপ্লেটের চারপাশে ৬ টি সরু ও লম্বা স্পর্শক তন্তু ও কতগুলো কাঁটার মতো স্পাইক থাকে। যার মাধ্যমে এরা পোষক ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করতে সক্ষম হয়। তবে এতে নিউক্লিয়াস, কোষঝিল্লি, সাইটোপ্লাজম, কোষপ্রাচীর ও অন্যান্য ক্ষুদ্রাঙ্গ নেই। (ঘ) নিম্নে ব্যাকটেরিওফায ভাইরাসের লম্বচ্ছেদের একটি চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করা হলো-