বাংলাদেশি নারীদের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে সম্মান বয়ে আনলেন রাশনা ইমাম। ভারত ও যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন (ওআরএফ) ও ভেদিক সক্লার প্রোগ্রাম কর্তৃক সম্প্রতি আয়োজিত গ্লোবাল প্রোগ্রাম ফর উইমেনস লিডারশিপের ফেলো নির্বাচিত হওয়ার বিরল গৌরব অর্জন করেছেন এই নারী আইনজীবী। গত এপ্রিলেই রাশনা ইমাম গ্লোবাল প্রোগ্রাম ফর উইমেনজ লিডারশিপের (জিপিইউএল) বিশেষ আমন্ত্রণে সাত দিনের জন্য ভারতের নয়াদিল্লিতে যান। আফ্রিকা, ভারত ও বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ৩১ জন অসামান্য মেধাবী নারীদের সঙ্গে তিনি যৌথ আলোচনায় অংশ নেন। সেখানে টেকসই স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তির মতো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। মূলত বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে প্রকট সমস্যাগুলো মোকাবিলায় সারা বিশ্ব থেকে উঠে আসা রাশনা ইমামের মতো নারী নেতৃত্বের অংশগ্রহণই ছিল আলোচনার মুখ্য উদ্দেশ্য। আইনি পেশায় থিতু হওয়া এই চৌকস নারী এর আগেও বিরল সাফল্যে অভিষিক্ত হয়েছেন। গত বছরেই রাশনা ইমাম ‘এশিয়া ২১ ইয়াং লিডার-২০১৮’ মনোনীত হয়েছিলেন। এই স্বীকৃতি এসেছে যখন তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে নতুন আইন প্রণয়ন করতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। ২০১৮-এর আগস্টে ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিতকরণ ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে ‘স্বদেশ’ নামের একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মো. হানিফ জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট করেন। এর পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী রাশনা ইমাম। এরপর গত ১৪ আগস্ট ঢাকা শহরের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে আগামী তিনমাসের মধ্যে তার তালিকা আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ প্রশ্নে রুল জারি করেন। ২০০৭ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাচেলর অব সিভিল ল’ (বিসিএল) ডিগ্রি নিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম ল’ ফার্ম বেকার অ্যান্ড মেকাঞ্জির লন্ডন অফিসে যোগ দেন রাশনা ইমাম। সেখান থেকে কোম্পানি ও বাণিজ্যিক আইন বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের পর দেশে ফিরে এসে আইনি পেশায় মনোনিবেশ করেন। রাশনা ইমাম বাংলাদেশের আইনি অধ্যায়ের সেকেলে এবং বৈষম্যমূলক আইনগুলো সংস্কার ও মানবাধিকার রক্ষায় সক্রিয়ভাবে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বর্তমানে ম্যানেজিং পার্টনার হিসেবে কর্মরত আছেন পিতার ল’ ফার্ম আখতার ইমাম অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসে।