পহেলা বৈশাখে উত্সব মুখর চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৩১
বন্দর নগরী চট্টগ্রামে নানা আয়োজনে বরণ করা হয়েছে নতুন বাংলা বছরকে। অতীতের গ্লানি ও জ্বরাকে বিদায় দিয়ে নতুনকে বরণ করে নেন সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের অগণিত মানুষ। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বৈশাখী মেলা ও মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে নববর্ষকে স্বাগত জানান তারা। ঐতিহ্যবাহী হালখাতা উপলক্ষে নগরীর বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গ্রাহকদের মিষ্টিমুখ করানো হয়। হোটেলগুলোতে বিশেষ ছাড়ে পান্তা ইলিশসহ বিভিন্ন মুখরোচক খাবার পরিবেশন করা হয়।
বরাবরের মতো নগরীর ডিসি হিল ও সিআরবি শিরীষতলায় ছিল বর্ষবরণের বড় আয়োজন। এছাড়া চট্টগ্রাম চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে বের করা হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা ইনস্টিটিউট ও চারুশিল্পী কল্যাণ সংস্থা যৌথভাবে এ শোভাযাত্রার আয়োজন করে। এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা শিল্পকলা একাডেমী, বাংলাদেশ মহিলা সমিতি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানেও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের উদ্যোগে প্রেসক্লাবের সদস্য বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিকদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাদের পরিয়ে দেয়া হয় উত্তরীয়, হাতে তুলে দেয়া হয় ফুল।
নগরীর ডিসি হিলে ভোর সোয়া ৬টায় সদারঙ্গের রাগসঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে বর্ষবরণের মূল আয়োজন শুরু হয়। এরপর বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে দলীয় সঙ্গীত, বৃন্দ আবৃত্তি, দলীয় নৃত্য পরিবেশিত হয়। সকালে বিশিষ্ট লেখিকা বেগম মুশতারী শফি ও ফাহমিদা আমিনকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। দিনভর বর্ষবরণের এ আয়োজন করে সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদ।
সকাল সাড়ে ৭টায় সিআরবি শিরিষতলায় নববর্ষ উদযাপন পরিষদের বর্ষবরণের অনুষ্ঠান শুরু হয় কৃষ্টি নামের একটি সংগঠনের যন্ত্রসংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। একই স্থানে বিকাল ৩টায় সাহাব উদ্দিনের বলীখেলা এবং দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
চবি সংবাদদাতা জানান, বরাবরের মত এবারো বিশ্ববিদ্যালয়ের জারুল তলায় বৈশাখী মঞ্চে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম আরিফ।