ক্ষমতা থাকলেও আদালতকে লাগে, না থাকলেও লাগে
প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৩৩
সরকারের আগ্রহ থাকলে সকালে সিদ্ধান্ত হয়, বিকালে অর্ডিন্যান্স জারি হতে দেখা গেছে। বিচার বিভাগের জন্য যত বিলম্ব্ব যত কষ্ট, অন্য জায়গায় তা হয় না। ক্ষমতা থাকলেও আদালতকে লাগে, না থাকলেও লাগে। আদালতে সবাইকে আসতে হয়। গতকাল সোমবার নিম্ন আদালতের বিচারকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব বাস্তবায়নের শুনানিকালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এ মন্তব্য করেন। প্রধান বিচারপতি মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে ছয় বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
গত ১৪ মার্চ বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের বেতন ও অন্যান্য ভাতাসংক্রান্ত একটি কাঠামো আদালতে দাখিল করা হয়। পরে আপিল বিভাগ কিছু সংশোধনের কথা উল্লেখ করে ১৫ এপ্রিল অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করে দেন। শুনানিতে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘একটি আবেদন দাখিল করা হবে।’ আদালত বলেন, ‘আপনারা বলেন, আপনারা আদালতের আদেশ শুনবেন না। যেকোনো দিন আবেদন ফাইল করতে পারতেন। প্রয়োজনে সময় চাইতে পারতেন। পরে আদালত বলেন, আজই (সোমবার) আবেদন করবেন। কাল (মঙ্গলবার) আদেশের জন্য রাখা হলো।
মাসদার হোসেন মামলার কৌঁসুলি এম আমীর উল ইসলাম বলেন, ‘সংবিধানের ১১৩, ১১৪ ও ১১৬ অনুচ্ছেদে অধস্থন আদালতের বিষয়ে বলা আছে। মাসদার হোসেনের মামলার রায়ে তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশনের সুপারিশ বাধ্যকর।
জানা যায়, মাসদার হোসেন মামলার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক হয়ে বিচার বিভাগ ২০০৭ সালে যাত্রা শুরু করে। পরে কমিশন গঠন করা হয়। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে কমিশন বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসংক্রান্ত সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দেয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে ওই পে-কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়া হয়। এটা বাস্তবায়নের জন্য সরকার পক্ষকে সময় দেয়া হয়। সুপারিশে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের মূল বেতনের সমপরিমাণ বিচারিক ভাতা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া চিকিত্সা, পোশাক-ভাতাসহ আরো কিছু সুবিধা দেয়ার কথাও সুপারিশে উল্লেখ করা হয়। এরপর ১৪ মার্চ বিচারকদের জন্য বেতন-কাঠামো আদালতে দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। ওইদিন আদালত কিছু সংশোধনের কথা উল্লেখ করেন।