সহিংসতার দায় বিএনপিকেই নিতে হবে :নাসিম
প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৩৪
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে জনমত সৃষ্টি এবং দেশ জুড়ে বিএনপি-জামায়াতের অব্যাহত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে পাঁচদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল। আগামী ১৮ এপ্রিল ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে নারী নেতাদের সঙ্গে সংহতি বৈঠক এবং ২, ৩ ও ৪ মে রাজধানীসহ সারাদেশে প্রতিবাদ সমাবেশ করবে ১৪ দল। এছাড়া পাঁচদিনের কর্মসূচির অংশ হিসাবে গতকাল সোমবার বিকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করে ১৪ দল। এর আগে গতকাল দুপুরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের বৈঠকে এসব কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।
বৈঠক শেষে ১৪ দলের পক্ষে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিএনপির শীর্ষস্থানীয় কিছু নেতা কয়েকদিন ধরে বলছেন, দেশে আরও রক্তপাত ও সহিংসতা হবে। তারা এসব কথা কীভাবে বলছেন? এসব কথা শুনে আমরা বিস্মিত হই। দেশে আর যদি কোনো সহিংসতা হয়, তাহলে এর দায়-দায়িত্ব বিএনপিকেই নিতে হবে। তিনি বলেন, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব প্রকাশ্যে রক্তপাতের ঘোষণা দিয়ে দেশে অস্থিতিশীলতা ও সামপ্রদায়িকতা সৃষ্টিতে উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যা, সন্ত্রাস, অগ্নিসংযোগ, রেললাইন উপড়ে ফেলা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ পুলিশের উপর নিষ্ঠুর হামলা পরিচালনা করছে। এটা কোন রাজনৈতিক আন্দোলন নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, নামে-বেনামে একটি ধর্মান্ধ গোষ্ঠী দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চায়।
সূত্র জানায়, বৈঠকে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে আওয়ামী লীগের কাছে রূপরেখা চেয়েছে ১৪ দলের শরিক দলগুলো। আওয়ামী লীগের রূপরেখার সঙ্গে নিজেদের রূপরেখার সমন্বয় ঘটিয়ে একটি সম্পূর্ণ রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরা দরকার বলে জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম এ বিষয়ে বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে টিআইবি যে প্রস্তাব দিয়েছে তা আসলে বিএনপির প্রস্তাবেরই সম্প্রসারণ। এ সময় কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ড. ওয়াজেদুল ইসলাম নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা তৈরির আহ্বান জানিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ এবং ১৪ দল মিলে নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা তৈরি করে সেটা জাতির সামনে তুলে ধরা দরকার। বৈঠকে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন, অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি এড়িয়ে ছাত্রলীগকে গণজাগরণ মঞ্চে অংশ নেয়া উচিত। যেহেতু গণজাগরণ মঞ্চে কোনো কমিটি নেই অথবা কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ নেই তাই মাঝে-মধ্যেই তাদের মাঝে ভুল বোঝাবুঝি হয়। এগুলো কাটিয়ে মঞ্চের সাফল্য কামনা করেন কয়েকজন নেতা।
সূত্র জানায়, বৈঠকে বিরোধী দলের আন্দোলন মোকাবেলা এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে আলোচনা উঠলে শরিক নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রস্তাব রাখেন। শরিক নেতাদের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হবে বলে আওয়ামী লীগের পক্ষে তাদের আশ্বস্ত করা হয়।