হাজী দানেশ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
পাহাড়ের টানে...
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৩, ১৯:০১
হাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে আসার পর সবার মনে যে একটি স্বপ্ন বারবার দোলা দিতে থাকে সেটি হচ্ছে ৩য় বছরের শিক্ষাসফর। দেখতে দেখতে মত্স্যবিজ্ঞান অনুষদের ৬ষ্ঠ ব্যাচের ছাত্র-ছাত্রীদের জীবনে নেমেই এলো সেই কাঙ্ক্ষিত সুযোগটি। শিক্ষাসফরে অভিভাবক হিসেবে ছিলেন আমাদের রাশেদ স্যার ও রিনি ম্যাডাম। মজার ব্যাপার হল আমাদের ফাইনাল পরীক্ষা চলছিল, পরীক্ষার ৩ দিন পরেই আমরা যাত্রা করবো ১৫ দিনের উদ্দেশ্যে তবুও ব্যস্ততার মাঝেও সবার মধ্যে ছিল শিক্ষাসফরের আমেজ। যাই হোক আমরা নাচে-গানে সারারাত ট্রেনে করে খুলনা গেলাম। অনেক ক্লান্ত তারপরেও ওই দিনে আমরা খুলনার সুন্দরবন, সৌদি-বাংলা হ্যাচারী ও ন্যাশনাল সীফুড, পরিদর্শনে গেলাম। তার পরের দিন আমরা ষাটগম্বুজ মসজিদ ও চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে রওনা হলাম চট্টগ্রাম এর উদ্দেশে। আনন্দের ব্যাপার এই যে, আমাদের সঙ্গে দু’জন অভিভাবক থাকা সত্ত্বেও ছিল একটি ছোট পরিবার, পরিবারে ছিল এক দাদু সে আর কেউ নয় আমাদেরই বন্ধু তন্ময় মাষ্টার আর তার নাতি নারায়ণ ও নারায়ণের বাবা-মা প্রণব মুখার্জি ও রনি মুখার্জি। আমাদের মাঝে ছিল এক বন্ধু তাকে সবাই হা-বন্ধু বলে ডাকত, আর সে এত পরিমাণে খেপত যে দিন দিন হা বলার মাত্রা বাড়তেই থাকল। চট্টগ্রামে আমরা ফয়েজ লেক, চিড়িয়াখানা ও কোয়ালিটি কন্ট্রোল অফিসসহ অনেক জায়গা ঘুরলাম। আরেকটি বিষয় না বলেই পারছি না সেটি হল রাঙ্গামাটির ঝুলন্তসেতু, আসলে কি কারণে এর নাম ঝুলন্ত আমরা বুঝতে পারিনি। আমাদের কাছে মনে হয়েছে এটি ঝুলন্ত নয়, উড়ন্ত। এক বান্ধবী ইলোরা তার খুবই ইচ্ছে ছিল সে ঝর্ণায় হাত-মুখ ধুবে, কিন্তু ঝর্ণা তাকে এতই ভালবাসত যে পা রাখার সাথেই তাকে পিচ্ছিল শক্ত পথে করে নিয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু এক বন্ধু তার যাওয়া দেখে বললো না তুমি যেও না বলে হাত ধরে তুলল। জানি না সে বান্ধবী কোমরে ব্যথা পেয়েছিল কিনা শৈলপ্রপাতের সেই ঝর্ণায়। সফরের ক্লান্তিলগ্নে বান্দরবানে আমরা আবার মিলিত হয়েছিলাম বারবিকিউ পার্টি ও ফ্রেন্ড কনসার্ট এর আনন্দে যা সত্যিই আমাদের জীবনে স্মৃতি হয়ে থাকবে। আরো অনেক কাহিনীই বিদ্যমান ছিল আমাদের সফরে। আগে শুধুই শুনেছি আমাদের এ বাংলাদেশ সুন্দর, রূপসী ও বৈচিত্র্যময়। সত্যিই বিউটিফুল এ বাংলাদেশ, যা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এর প্রাকৃতিক পাহাড়-পর্বত অবলোকন না করলে বোঝা যাবে না। সমুদ্রের সৌন্দর্য দেখতে হলে অবশ্যই আমাদের কক্সবাজার যেতে হবে।