ভেনেজুয়েলায় নির্বাচনের ভোট পুনর্গণনা চান ক্যাপ্রিলেস
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৩, ২০:৫৩
ভেনিজুয়েলার নির্বাচন কমিশন সোমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সামান্য ব্যবধানে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট উগো শ্যাভেজের উত্তরসূরি নিকোলাস মাদুরোর জয় ঘোষণার পর এ নির্বাচনকে ‘অবৈধ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং ফল পুনরায় গণনা করার দাবি জানিয়েছেন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হেনরি ক্যাপ্রিলেস। এদিকে ফল পুনর্বিবেচনার দাবি ওঠায় দেশটিতে পুলিশ ও বিক্ষোভকারী ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এসময় বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোঁড়ে পুলিশ। নির্বাচনী লড়াইয়ে খুবই স্বল্প ব্যবধানে হেরে যাওয়া ক্যাপ্রিলেস ভোটে ৩ লাখেরও বেশি অনিয়মের অভিযোগ করে বলেছেন, ভোটের ফল খতিয়ে দেখা দরকার। রবিবারের ভোটে ভেনিজুয়েলার প্রয়াত নেতা হুগো শ্যাভেজ মনোনীত উত্তরাধিকারী ও দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট মাদুরো ৫০ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী মিরান্ডা রাজ্যের গভর্নর হেনরি ক্যাপ্রিলেসকে পরাজিত করেন। ক্যাপ্রিলেস ৪৯ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। নির্বাচনের ফলকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তা মেনে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মাদুরো। ওদিকে নির্বাচন কমিশনও ভোটের ফল পরিবর্তনযোগ্য নয় বলে জানিয়েছে। কিন্তু প্রতিপক্ষ ক্যাপ্রিলেস অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং মাদুরোকে অবৈধ আখ্যা দিয়েছেন। ভোটের ফল পুনর্গণনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি আজ একজন প্রার্থীর সঙ্গে না বরং গোটা ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে লড়েছি।” ওদিকে ভোটের ফল সম্পর্কে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাদুরো কারাকাসে এক জনসভায় তার জয়কে ‘সুষ্ঠু ও সাংবিধানিক’ বলে অভিহিত করেন। তার জয়ের খবরে রাজধানীতেও বয়ে যায় আনন্দের বন্যা। ৫ মার্চ শ্যাভেজের মৃত্যুর পর থেকে মাদুরো প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এখন ৬ বছর মেয়াদে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় তিনি দেশটির মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী এবং প্রয়াত প্রেসিডেন্ট শ্যাভেজের নীতি ও কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে পারবেন বলেই মনে করা হচ্ছে। মাদুরো আগামী ১৯ এপ্রিল দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তার মেয়াদ শেষ হবে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে।
এদিকে রবিবারে ফল ঘোষণার পর তা প্রত্যাখ্যান করে বিরোধী দল। এতে করে রাজধানী কারাকাসের একটি অংশে সোমবার পুলিশ ও ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। ছাত্ররা পুলিশের ওপর কংক্রিট ও পাথরের টুকরা নিক্ষেপ করে। বিক্ষোভকারীরা রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় পতাকা উড়িয়েও ও বাড়ি থেকে আনা হাড়ি-পাতিল, কড়াই-ডেকচি বাজিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এসময় পুরো রাজধানীর অনেক রাস্তা বন্ধ থাকে। ওদিকে বিরোধী নেতা ক্যাপ্রিলেস নির্বাচনী ফলাফল বর্জন করে পুরো জাতিকে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান। তাছাড়া প্রতিবাদ স্বরূপ নির্বাচন কমিশন অফিসের দিকে পদযাত্রা করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।