চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা ও যানজট নিরসনের দাবি
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৩, ২২:১৬
লাইটার ও কোস্টার শ্রমিকদের লাগাতার কর্মবিরতির কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। চট্টগ্রাম বন্দরের বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্ত চলছে উল্লেখ করে তারা চিটাগাং চেম্বারের নেতৃত্বে এ অশুভ তত্পরতা প্রতিরোধে সব মহলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান। বন্দর ব্যবহারকারীরা প্রাইভেট আইসিডিসমূহের উচ্চ চার্জ এবং দক্ষ ও পর্যাপ্ত শ্রমিক সরবরাহের দাবি জানান। চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতায় তৈরি পোশাক শিল্পখাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উল্লেখ করে বক্তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অসহনীয় যানজট নিরসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
গতকাল চট্টগ্রাম চেম্বার মিলনায়তনে বন্দর ব্যবহারকারীদের মতবিনিময় সভায় তারা একথা বলেন। চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি ও পোর্ট ইউজার্স ফোরামের চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিএসএএ, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশন, বিএমএসএ, চট্টগ্রাম বন্দর ট্রাক মালিক ও কন্ট্রাক্টর এসোসিয়েশন, আন্তঃজেলা মালামাল পরিবহন সংস্থা, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতি, প্রাইম মুভার ওনার্স এসোসিয়েশন, বারভিডা, বিজিএপিএমইএসহ সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডার প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, অভ্যন্তরীণ লাইটার ও কোস্টার জাহাজ শ্রমিকদের লাগাতার কর্মবিরতির কারণে ১০-১২ দিন যাবত্ চট্টগ্রাম বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বন্দরে আসা বিদেশি মাদার ভেসেল থেকে যথাসময়ে আমদানি পণ্য খালাস না হওয়ায় আমদানিকারকদের বিশাল অঙ্কের ডেমারেজ চার্জ পরিশোধের পাশাপাশি ব্যাংক সুদসহ বিরাট অংকের আর্থিক বোঝা বহন করতে হচ্ছে। পণ্য ছাড় না হওয়ায় নিত্য পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং কাঁচামালের সংকটে শিল্প উত্পাদনে ধস নেমেছে। সরকারও বঞ্চিত হচ্ছে রাজস্ব থেকে যার নেতিবাচক প্রভাব আগামী বাজেটে পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
চেম্বার সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. নুরুন নেওয়াজ বন্দর ও কাস্টমস সম্পর্কিত যাবতীয় সমস্যা লিখিতভাবে চেম্বারে প্রেরণের জন্য সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের প্রতি আহবান জানান। চেম্বার সহ-সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ চট্টগ্রাম বন্দরের বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্ত হচ্ছে বলে উল্লেখ করে চিটগাং চেম্বারের নেতৃত্বে দলমত নির্বিশেষে সকলকে এ ধরনের অশুভ তত্পরতা প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।
বিএসএএ’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান কামাল হায়াত বন্দরে অতিমাত্রায় অনিয়ম নিয়মে পরিণত হয়েছে বলে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সকলকে ব্যবসার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন-কানুনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার অনুরোধ জানান। বিজিএমইএ’র পরিচালক এমএ ওহাব চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতায় তৈরি পোশাক শিল্প খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অসহনীয় যানজট নিরসনের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু বন্দর ও কাস্টমসের কর্মকাণ্ড অধিকতর গতিশীল করার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট তথ্য সম্বলিত একটি ন্যাশনাল ডাটা বেইস তৈরি করার প্রস্তাব করেন যা দেশ-বিদেশের সাথে আমাদের ব্যবসায়িক সম্পর্কে আরো গতিশীল করতে সহায়ক হবে। তিনি প্রাইভেট আইসিডিসমূহের উচ্চ চার্জ, অদক্ষ ও অপ্রতুল শ্রমিক সরবরাহ এবং এ খাতে চলমান অনিয়ম বন্ধে চেম্বারের সহযোগিতা কামনা করেন।
বিকেএমইএ’র শওকত ওসমান রাজনৈতিক দলগুলোকে হরতাল আহবানের পূর্বে ব্যবসায়ী সমাজের সাথে আলোচনাসহ হরতালের বিকল্পের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। সিএন্ডএফ এর যুগ্ম সচিব কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু গার্মেন্ট পণ্যের জালিয়াত চক্রের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে এক্ষেত্রে তদন্তকালে শুধুমাত্র পণ্য মালিক ও সিএন্ডএফ এজেন্টদের একতরফাভাবে দোষারোপ না করে কাস্টমস কর্মকর্তা জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানান এবং তদন্ত কমিটিতে চেম্বারসহ ব্যবসায়ী প্রতিনিধির অন্তর্ভুক্তি দাবি করেন।