কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে রায় অপেক্ষমান, গোলাম আযমের শুনানি আজ শেষ
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৩, ২২:২০
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতের আরো দুই শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার রায় আসছে। এরা হলেন, জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও সাবেক আমীর গোলাম আযম। গতকাল মঙ্গলবার কামারুজ্জামানের বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। গতকালই মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রেখেছে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এছাড়া, আজ বুধবার সরকার পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে গোলাম আযমের মামলা রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখা হবে। এ নিয়ে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঁচজনের বিচারকাজ শেষ হলো। এর মধ্যে তিনটি মামলার রায় দেয়া হয়েছে।
গতকাল বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ এ কামারুজ্জামানের পক্ষে দেয়া যুক্তি খণ্ডন করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। প্রসিকিউটর এডভোকেট সৈয়দ হায়দার আলী ও ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ যুক্তি খণ্ডন করেন। সোমবার এ মামলায় আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়।
কামারুজ্জামানের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে ১৮ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল আসামিপক্ষের এক হাজার ৩৫৪ জন সাক্ষীর তালিকা থেকে প্রথমে সাফাই সাক্ষীর সংখ্যা চারজনে সীমাবদ্ধ করে দেন। পরে আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাফাই সাক্ষী আরেকজন বাড়ানো হয়। আসামিপক্ষের সেই পাঁচজনই সাফাই সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এই তালিকায় রয়েছেন কামারুজ্জামানের ছেলে মোহাম্মদ হাসান ইকবাল ও তার বড় ভাই কফিল উদ্দিন।
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুলাই কামারুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়। একই বছরের ২ অক্টোবর তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। ২০১১ সালের ১১ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১-এ তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। ওই বছরের ১৬ এপ্রিল মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-২-এ স্থানান্তর করা হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি অভিযোগে গত বছরের ৪ জুন এ ট্রাইব্যুনালে কামারুজ্জামানের বিচার শুরু হয়। ২ জুলাই রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীরা তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রদান শুরু করেন। আসামিপক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয় ৬ মার্চ।