কুড়িগ্রামে হোটেল রেস্তোরাঁয় অনির্দিষ্টকাল ধর্মঘটের ডাক
ফজলে ইলাহী স্বপন, কুড়িগ্রাম
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৩, ২২:২৩
কুড়িগ্রামে মজুরি বৃদ্ধিসহ রেস্তোরাঁ শ্রমিকদের ৪ দফা দাবীতে অনির্দিষ্টকালের জন্য হোটেল রেস্তোরাঁয় ধর্মঘট চলছে। সোমবার থেকে চলা এই ধর্মঘটের কারণে কুড়িগ্রাম শহরের সকল হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধ রয়েছে। মালিক পক্ষ শ্রমিকদের দাবী না মেনে অনড় অবস্থানে রয়েছেন। এ ছাড়া শ্রমিকদের হামলায় রেস্তোরাঁ মালিকপক্ষের দু’জন গুরুত্বর আহত হওয়ার প্রেক্ষিতে থানায় মামলা হওয়ায় মালিক ও শ্রমিকপক্ষ এখন মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন। এ দিকে ধর্মঘটের কারণে চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষজন পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
এদিকে সোমবার রাতে রেস্তোরাঁ শ্রমিকদের একটি মিছিল শহর প্রদক্ষিণকালে বনফুল নামে একটি রেস্টুরেন্টে হামলা চালিয়ে তা ভাঙচুর করে। এসময় তাদের হামলায় ওই রেস্টুরেন্টের মালিক মিজানুর ও পার্শ্ববর্তী দোকানদার জামিল আহত হন। গুরুতর আহত জামিলকে রংপুর প্রাইম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে শ্রমিক নেতাদের আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
শ্রমিকরা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তাদের দাবীর বিষয়টি মালিকদের জানালেও তারা কর্ণপাত না করায় বাধ্য হয়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। তাদের দাবীর মধ্যে রয়েছে, ২৫ ভাগ মজুরি বৃদ্ধি, কল্যাণ তহবিল গঠন, নির্ধারিত শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানো এবং মে দিবসে স্ববেতনে ছুটি প্রদান। তবে রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ দাবি করেন, তারা সরকার ঘোষিত মজুরি কমিশনের চেয়েও অধিক হারে শ্রমিকদের বেতন দিয়ে থাকেন। তিনি বলেন, দাবী নিয়ে ১ মে আলোচনার জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হটকারিভাবে ধর্মঘট আহবান করা হয়েছে। এভাবে ধর্মঘট করে অযৌক্তিক দাবী আদায় করা যাবে না।
কুড়িগ্রাম জেলা হোটেল ও রেস্তোরাঁ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আমজাদ হাসেন বলেন, প্রায় এক বছর ধরে মালিকপক্ষ দাবীর ব্যাপারে টালবাহানা করছেন। দাবী মানার জন্য ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত আলটিমেটাম দেয়া হয়েছিল। এ সময় পর্যন্ত দাবী না মানায় তারা বাধ্য হয়ে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডেকেছেন বলে মন্তব্য করেন।