হলিউড

ক্রুজের সাই-ফাই মিশন

একনজরে কাস্ট :টম ক্রুজ, ওলগা ক্রয়েলেনকো ডিরেকশন :জেসেপ কোসিনস্কি লেখক :উইলিয়াম মোনাহান, কার্ল গাজডুসেক, মাইকেল অর্নড গল্প :জোসেপ কোসিনস্কি ‘অবলিভিয়ন’ শব্দটির অর্থ করতে গেলে পাওয়া যায় এমন এক নগরী, যা সবকিছু থেকে বঞ্চিত, অবহেলিত। কেউ এ নগরীর খবর জানে না বলা যায়। পৃথিবী নামের এই গ্রহটিও তেমনি সব কিছু থেকে বঞ্চিত। উদ্ধারকাজ করতে টমকে সেখানে পাঠানো হয়। জ্যাক হার্পার চরিত্রে অভিনয়কারী টমকে কঠিনসব বিপদের মুখে পড়তে হয় সেখানে। একই উদ্দেশ্যে আসা সুন্দরী অচেনা মানবীর সাথে পরিচয় হয় তার। দুজনে ঝাঁপিয়ে পড়ে পৃথিবী বাঁচানোর মিশনে। পৃথিবীর ভবিষ্যত্ তাদের হাতে। এরপর কী হবে সেটা জানার জন্য দেখতে হবে সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া অবলিভিয়ন। হলিউডি অভিনেত্রী ওলগা ক্রয়েলেনকো সম্প্রতি তার নতুন এই সিনেমা ‘অবলিভিয়ন’-এর সহশিল্পী টম ক্রুজের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। সহশিল্পী টমের ব্যাপারে ‘ফিমেলফার্স্টইউকে’-কে ওলগা বলেন, ‘সহশিল্পীদের ব্যাপারে ক্রুজ অনেক সহায়ক একজন মানুষ এবং তিনি অনেকভাবে সাহায্যও করে থাকেন।’ চলতি সপ্তাহে লন্ডনে ‘অবলিভিয়ন’ সিনেমাটির প্রচারণার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ওলগা। সিনেমাটিতে টম এবং ওলগার সঙ্গে আরও অভিনয় করেছেন মরগ্যান ফ্রিম্যান, অ্যান্ডরেয়া রাইসবোরফ এবং নিকোলাজ কোস্টারের মতো তারকারা। এবারে জেনে নেওয়া যাক জনপ্রিয় এই অভিনেতা সম্পর্কে কিছু কথা আমেরিকান চলচ্চিত্র অভিনেতা ও পরিচালক হিসেবে বিশ্বের সর্বত্র অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব টম ক্রুজ। তার পুরো নাম ৪র্থ টমাস ক্রুজ ম্যাপোথার। তিনি তিনবার একাডেমী পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন লাভ করেছিলেন এবং তিনবার গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার জয় করেছেন। মিশন ‘ইম্পসিবল খ্যাত জনপ্রিয় এই অভিনেতা যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের সাইরেকিউজে জন্মগ্রহণ করেন। তার মা মেরি লি একজন শিক্ষাবিদ ছিলেন। বাবা ৩য় টমাস ক্রুজ ম্যাপোথার ছিলেন একজন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। টম ক্রুজের পূর্বপুরুষগণ ছিলেন জার্মান, আইরিশ এবং ইংরেজ গোত্রের। ক্যাথলিক পরিবারে রাগী ও কটুভাষী পিতার কঠোর শাসনে ও কঠিন দারিদ্র্যের মধ্যে তিনি বড় হন। ক্যারিয়ারের শুরু ১৯৮১ সালে ক্রুজ ‘এন্ডলেস লাভ’ এবং ‘ট্যাপস্’ চলচ্চিত্রে সহকারী চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে রুপালিপর্দার জীবন শুরু করেন। এরপর তিনি একটি সামরিক বিদ্যালয়ের পাগল ছাত্রের চরিত্রেও অভিনয় করেছিলেন। ১৯৮৩ সালে ‘লসইন’ ইট শীর্ষক কমেডি ধাঁচের চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেন। ওই একই বছরে ‘অল দ্য রাইট মুভস্’ এবং ‘রিস্কি বিজনেস’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে টম ক্রুজের অভিনয় জীবনে সাফল্য লাভ শুরু হয়। এরপর ১৯৮৬ সালের ‘টপ গান’ চলচ্চিত্র তাকে পুরোপুরি তারকা খ্যাতির মর্যাদা এনে দেয়। এরপর ‘দ্য কালার অব মানি’ ওই বছরই মুক্তি পায়। অসাধারণ অভিনয়শৈলীর জন্য তিনি পল নিউম্যানের সাথে যৌথভাবে একাডেমী পুরস্কার লাভ করেন। পিপলস ম্যাগাজিন তাকে বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর ব্যক্তির মর্যাদা দেয়। ১৯৯০, ১৯৯১ এবং ১৯৯৭ সালে তিনি বছরের সেরা ৫০ জন ব্যক্তির একজন হিসেবে নির্বাচিত হন। ১৯৯৫ সালে এম্পায়ার ম্যাগাজিন তাকে চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সেরা ১০০ জন আবেদনময় পুরুষ তারকার তালিকায় স্থান দেয়। এর দু’বছর পর পত্রিকাটি সর্বকালের সেরা পাঁচ জনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে তাকে। ২০০২ এবং ২০০৩ সালে তিনি প্রিমিয়ার ম্যাগাজিন কর্তৃক প্রকাশিত পাওয়ার হান্ড্রেডের শীর্ষ ২০-এর তালিকায় স্থান পান। ২০০৬ সালে প্রিমিয়ার ম্যাগাজিন টম ক্রুজকে হলিউডের সবচেয়ে ক্ষমতাধর অভিনেতা হিসেবে চিহ্নিত করে। একই বছর ফোর্বস সাময়িকী তাকে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর চিত্রতারকার আসনে অভিষিক্ত করে। ‘রিস্কি বিজনেস’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সময় সহ-তারকা রেবেকা ডি মোর্নের সাথে প্রণয়ে জড়িয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু ৯ মে ১৯৮৭ সালে বিশিষ্ট চলচ্চিত্র অভিনেত্রী মিমি রজার্সকে বিয়ে করেন তিনি। পরবর্তীতে ১৯৯০ সালে তাদের মধ্যে বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর ‘ডেজ অব থান্ডার’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সময় নিকোল কিডম্যানের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। টম ক্রুজের খ্যাতির একটি মজার দিক হলো, ১০ অক্টোবর, ২০০৬ সালে জাপানে টম ক্রুজ ডে হিসেবে পালন করা হয়। জাপান মেমোরিয়াল ডে অ্যাসোসিয়েশন বিশেষ দিবস হিসেবে তার এ অর্জনের জন্য বলেছে যে, টম ক্রুজ অন্য যেকোনো হলিউড তারকার তুলনায় জাপানে অধিকবার ভ্রমণ করেছেন। আর এ কারণেই দিবসটি পালন করা হয়।