নতুন নাটক

রেস্টুরেন্ট ২১

বেসরকারি চ্যানেল দেশ টিভিতে গতকাল বুধবার থেকে শুরু হয়েছে নতুন ধারাবাহিক নাটক ‘রেস্টুরেন্ট ২১’। মুরাদ পারভেজের রচনা ও পরিচালনায় এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাইসুল ইসলাম আসাদ, তৌকীর আহেমদ, বন্যা মির্জা, ফারজানা চুমকি, আহসান হাবিব নাসিম, বিজরী বরকতুল্লাহ, তুষার খান, ইন্তেখাব দিনার, আজাদ আবুল কালাম, মিতা চৌধুরী, রোজি সিদ্দিকী, সাবেরী আলম, মানস বন্দোপাধ্যায়, সাজু খাদেম, কায়েস চৌধুরী, আব্দুল্লাহ রানাসহ আরও অনেকে। মোমিন মিয়ার শেষ সম্বল টিনের একখানা ঘর, বৃদ্ধা মা এবং পোয়াতী বউ। যেদিন রাতে ভাঙনে সব নদীতে বিলিন হলো সেদিন থেকে সব মায়া ভালোবাসা ত্যাগ করে মোমিন চলে এলো ঢাকা শহরে। শহরে এসে মোমিন সদর ঘাটে কুলিগিরি থেকে শুরু করে শাহবাগে রিকশা চালানো, কাওরান বাজারে ঠেলা গাড়ি ঠেলা, এফডিসি গেটে ভাত বিক্রি করা থেকে শুরু করে সে অনেক পেশায় নিজেকে যুক্ত করে। অভিজ্ঞতার আলোয় এখন যে ব্যবসাটা করছে সেটা তার ২১ নম্বর ব্যবসা। আর তাই তার বর্তমান হোটেল ব্যবসাটার নাম রেখেছে রেস্টুরেন্ট ২১। দীর্ঘ সময়ে মোমিন মিয়া নদীর চরিত্র যেমন চিনেছে তেমনি চিনেছে মানুষ। তাই কাউকে ভালোবেসে বোকামি করার মতো মন তার নেই। হাইওয়ের পাশের রেস্টুরেন্ট ২১-এ প্রতিদিন বহুরকমের কাস্টমার আসে। সঙ্গে নিয়ে আসে বিভিন্ন রকমের ঝামেলা। প্রতিদিন এতসব ঝামেলা সামলিয়েও রাতে তার হোটেলে বসে তাসের এবং লুডুর আসর। কেউ গলাছেড়ে ধরে গান। এত সব কিছুতে অংশগ্রহণ করে মোমিন মিয়া। ৭/৮ জনই এখন তার সংসার, সংসারের সদস্য। তাদের সুখে যেমন হাসে, তেমনি দুঃখেও কাঁদে মোমিন মিয়া। প্রায় দেখা যায় পাঞ্জাবি পরা একটা কাস্টমার আসে এই রেস্টুরেন্ট ২১-এ বিভিন্ন রকমের গাড়ি নিয়ে এবং ওই কাস্টমার এর সঙ্গে মোমিন মিয়ার হোটেলের ২/৩ জনের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে উঠে। মাঝে মাঝে ওদের তিন জনকে পাওয়া যায় না। লাল্টু, চান্দু ও রাজু। তাদের আবার আচরণেও আসে পরিবর্তন। এদিকে এই হাইওয়েতে বাড়তে থাকে কিডন্যাপের নানা ঘটনা। গাড়ি থেকে শুরু করে মানুষ পর্যন্ত। এদিকে শহরের সবচেয়ে ধনাঢ্য ব্যক্তির একমাত্র কন্যা হঠাত্ করে কিডন্যাপ হয়। চারিদিকে এই গুজব ছড়িয়ে পড়তেই লাল্টু, চান্দু ও রাজুকে পাওয়া যায় না। ধনী বাবা শরীফ চৌধুরী চারিদিকে লোক লাগায় মেয়ের খোঁজে। কিন্তু সন্দেহ দেখা যায়, শরীফ চৌধুরী আসলেই কি মেয়ের সন্ধান চান? নাকি চান না? থেকে যায় রহস্য। পাঞ্জাবিওয়ালা আসে না রেস্টুরেন্টে। মোমিন মিয়ার রেস্টুরেন্টে পুলিশ আসে লাল্টু-চান্দুর খোঁজ নিতে। কিডন্যাপকৃত মেয়েসহ এক পোড়া বাড়িতে দেখা যাবে ওই তিনজনকে। বড়লোকের মেয়ের বিভিন্ন আবদার রক্ষা করতে তাদের অবস্থা কাহিল। এখন পিজ্জা খাবে তো বিকালে মামা হালিম। রাতে বিরিয়ানি। শহর থেকে অনেক দূরে এই পোড়া বাড়ি। এই সব অ্যারেঞ্জ করতে অস্থির ওরা তিনজন। না খেতে দিলে মেয়েটা মারা যাবে। মারা গেলে পাঞ্জাবিওয়ালা তাদের টাকা দিবে না। এদিকে পাঞ্জাবিওয়ালাও তাদের আর কোনো খোঁজখবর নিচ্ছে না। তাদের টাকাও শেষ। এই পোড়া বাড়িতেও তারা নিরাপদ ভাবে না নিজেদের। মেয়েটার সঙ্গে ধীরে ধীরে সম্পর্ক গড়ে উঠে চান্দুর। হঠাত্ করে বিট্রেয়ার হয়ে যায় রাজু। পুলিশ হানা দেয় পোড়া বাড়িতে। পালিয়ে যায় অন্যস্থানে ওরা। পাঞ্জাবিওয়ালা তাদের টাকা দিতে দেনদরবার করে, কিন্তু টাকা দেয় না। এখন কী করবে চান্দু, লাল্টু। মেয়েটা তাদেরকে প্রস্তাব দেয় যে, তারা তার বাবার কাছে টাকা চাইলে টাকা দিবে। কিন্তু তখন জানা যায় যে, মেয়ের বাবা শরিফ চৌধুরী চায় না মেয়েটা উদ্ধার হোক। ওদিকে কিডন্যাপকৃত মেয়ে ঝরা এবং প্রতিদিন কর্পোরেট অফিসে কর্মরত মেয়ে বেনু রেজা এবং রেস্টুরেন্ট ২১-এ প্রতিদিন খাবার চুরি করে খাওয়া মেয়ে নাদিয়ার চেহারা একই রকম। কি তার রহস্য? তিন মেয়ের চরিত্রে একজন? নাকি তিন মেয়েই আলাদা আলাদা? এভাবেই এগিয়ে যায় নাটকের কাহিনী। নাটক প্রসঙ্গে পরিচালক বলেন, ‘এই নাটক দেখে দর্শকরা শুধু বিনোদন পাবেন, তা নয়। এর মধ্যে আছে বেশ কিছু মেসেজ। আশা করছি নাটকটি সবার ভালো লাগবে।’ ধারাবাহিক নাটক ‘রেস্টুরেন্ট ২১’ প্রচারিত হয় প্রতি প্রতি বুধ এবং বৃহস্পতিবার রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে।