প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, তোমাদের জন্য ধারাবাহিকভাবে বাংলা বানানের বিভিন্ন নিয়ম প্রকাশ হচ্ছে। আজ আমরা জানবো দৈনন্দিন জীবনে পথে-ঘাটে সাইনবোর্ডে ব্যবহূত পরিচিত যে শব্দগুলো হরহামেশাই আমরা ব্যবহার করছি, লিখছি কিংবা পড়ছি, সেই শব্দগুলি শুদ্ধ ও ব্যাকরণসম্মত কিনা? এসো দেখে নেই।
সাইন বোর্ড ও ব্যানারসহ সব জায়গায় ভুল বানানের ছড়াছড়ি। এমনকি সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামের বানানে ও রয়েছে চরম বিভ্রান্তি। বাংলা একাডেমি প্রণীত বানান রীতি মানছে না অনেক সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। এসো আমরা কিছু ভুল বানানের উদাহরণ এবং এর শুদ্ধরূপ কী হবে লক্ষ্য করি।
ক) আমরা প্রায়ই দেখতে পাই “ইনস্টিটিউট” লিখতে ব্যবহার করা হচ্ছে মূর্ধন্য ষ। অথচ বিদেশি শব্দে মূর্ধন্য ষ এর ব্যবহার ভুল হলেও মানুষের চোখের সামনেই এমন বিভ্রান্তিকর বানান।
খ) বাংলা বানানের মডেল প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি। এখান থেকে কিছু দূরেই শিশু একাডেমি। অথচ সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটির বানান লিখতে ব্যবহার করা হয়েছে ঈ কার। বর্তমান বাংলা বানানরীতি অনুযায়ী বিদেশি শব্দে দীর্ঘ- ঈ কার ব্যবহারে নিয়ম না থাকায় এটিও ভুল।
গ) সুপ্রিম কোর্টের উল্টোপাশেই সরকারি প্রতিষ্ঠান- জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ। যেখানেও ব্যবহার করা হয়েছে মূর্ধন্য-ণ। বানানরীতি অনুযায়ী এ বানানটিও ভুল।
ঘ) সরকারি হাসপাতালের বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ই্উনিট। গণমাধ্যমের কল্যাণে প্রতিদিনই এই সাইনবোর্ডটি দেখছেন হাজারো মানুষ। কিন্তু এখানকার বার্ন বানানটি লেখা হয়েছে “বার্ণ’ এভাবে। শুদ্ধবানান প্লাস্টিক সার্জারি কিন্তু দুইটি সাইনবোর্ডে তা দুই রকমের। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভুল সংশোধনের পরামর্শ দিয়েছে সেই বানানই ভুল। এন্ড বানানটিও ভুল। শুদ্ধ করে লিখতে হবে ‘ অ্যান্ড’।
ঙ) ইষ্টার্ণ প্লাজা- এই শব্দটিতে দু’টি ভুল বানান আছে। অথচ আমরা সবসময়ই এটি দেখে আসছি বিজ্ঞাপনে বা সাইনবোর্ডে। সঠিক শব্দটি হবে “ইস্টার্ন”।
চ) দুঃখজনক হলেও সত্য এটি প্রকটভাবে আমরা দেখতে পাই ভাষা শহীদদের প্রতি ‘ভুল বানানে শ্রদ্ধাঞ্জলী (সঠিক বানান শ্রদ্ধাঞ্জলি)’ সংবলিত কার্ডে।
ছ) মর্ডান ফার্ণিচার সবসময় সাইন বোর্ডে তুমি এভাবে পাবে। কিন্তু সঠিক হবে-‘মডার্ন ফার্নিচার।
জ) ব্যানারে কী ভয়াবহ বানান! প্রায়ই লেখা থাকে ‘দূরশ্বাষনের’, ‘বিরোদ্ধে’, ‘কণ্ঠসুর’, ‘স্বইরাচারী’, ‘বিক্ষুভ’ ইত্যাদি ভুল। (সঠিক বানান হবে- দুঃশাসন, বিরুদ্ধে, কণ্ঠস্বর, স্বৈরাচারী, বিক্ষোভ)।
ঝ) নগরজুড়ে ‘দেয়াল লিখে’ আহ্বান জানিয়েছেন ‘দেয়ালে পোষ্টার’ না লাগানোর জন্য। কিন্তু পোষ্টার বানানটি ভুল; সঠিকটি হবে পোস্টার।
ঞ) বাংলাদেশ শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সাইনবোর্ডে তাদের নিজেদের দাবি তুলে ধরেছে এইভাবে- ‘সার্বক্ষনিক হূদরোগ চিকিত্সার অনন্য প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে। সেখানে ‘সার্বক্ষণিক’ লেখা হয়েছে ‘সার্বক্ষনিক’ বানানে। ‘সার্জারী’, ‘ইমার্জেন্সী’ বানানেও ঈ-কার ব্যবহার হয়েছে ভুল করে।
আমরা নিজের অজান্তেই ভুল বানানে লিখছি। অথচ একটু সচেতনতার সাথে নিয়মিত বাংলা বানান চর্চার মাধ্যমে এই সমস্যা অনায়াসেই কাটিয়ে উঠতে পারি । বাংলা বানানের ক্ষেত্রে নিয়ম রয়েছে। বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম মেনে এ ধরনের ভুল সহজেই এড়ানো যায়। যত্রতত্র বাংলা বানানের ভুল ভাষার জন্য অমর্যাদাকর। এ ধরনের ভুল ও বিকৃতি থেকে বেরিয়ে আসার ব্যাপারে প্রথম থেকেই তোমরা সচেতন থাকবে। (চলবে)।
(সূত্র: ভাষাশিক্ষা ও ব্যাকরণ-মাহবুবুলআলম, ভাষাপ্রকাশ ব্যাকরণ ও রচনা -অধ্যাপক নিরঞ্জন অধিকারী )
নিয়মিত চোখ রাখো বাংলা বানানের নিয়ম-কানুন ফেইসবুক পেইজ গ্রুপে ও দৈনিক ইত্তেফাক এর অনুশীলন পাতায়।