হাওরে উত্সবের আমেজ শুরু হলো ধান কাটা

সুনামগঞ্জের হাওরে ধান কাটার ধুম পড়েছে। চারিদিকে এখন বিরাজ করছে পাকা ধানের ম-ম ঘ্রাণ। তপ্ত রোদে কৃষকদের শরীরের ঘাম ঝরার কষ্টও ফিকে হয়ে যাচ্ছে সোনালী ধানের শীষ দেখে। ধান কাটা, মাড়াই, শুকানো সব মিলিয়ে হাওর পাড়ের কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে শেষ সময়ে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষকরা কিছুটা হতাশ। সুনামগঞ্জের ১১টি উপজেলায় এবার দুই লাখ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান চাষ হয়েছে। কৃষকরা জমিতে হাইব্রিড, উফশী জাতের ধানই বেশি চাষ করেছেন। ফলন বেশি হওয়ায় গত কয়েক বছর ধরে হাওরাঞ্চলের কৃষকরা উচ্চ ফলনশীল ধানের চারা রোপণ করছেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বেশ কয়েকটি হাওর ঘুরে দেখা যায়, হাওরে পাকা ধান ক্ষেতে যেন থরে থরে সাজানো। বৃষ্টিপাত কম হলেও ফলন এবার ভাল হয়েছে। ইতিমধ্যে কৃষকরা পাকা ধান কাটতে শুরু করেছেন। কামলাদের (শ্রমিক) সাথে কৃষকরা নিজেরাও কাচি নিয়ে পাকা ধান কাটছেন। সেই ধান আবার কৃষকরা মেশিনের সাহায্যে মাড়াই করছেন। কৃষক ঘরের গৃহিণীরা এখন বাড়ির উঠানে (খলা) ধান শুকাচ্ছেন। ধান কাটা, মাড়াই, শুকানো সব মিলিয়ে কৃষকরা নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। ধরমপাশার বোগার হাওরের কৃষক কবির মিয়া বলেন, চৈত্র মাসের শেষ দিক থেকেই ধান কাটা শুরু হয়েছে। শেষ সময়ে সামান্য বৃষ্টি হলে এবছর ফসলটা আরো ভাল হত। দক্ষিণ সুনামগঞ্জের দেখার হাওরের কৃষক রমিজ উদ্দিন বলেন, হাইব্রিড, উফশী জাতের ধান কাটা শুরু হতে আরো কয়েক দিন লাগবে। তবে সাধারণ বোরো ধান কাটা শুরু হয়ে গেছে। কৃষকরা ধান কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে কামলা (শ্রমিক) না পাওয়ায় কিছুটা সমস্যায় পড়েছেন কৃষকরা। জয়নাল মিয়া নামে আরেক কৃষক জানান, এই রকম আবহাওয়া থাকলে ১৫-২০ দিনের মধ্যে ফসল ঘরে তোলতে পারবে কৃষকরা। তবে আগাম বন্যার জন্য কৃষকরা কিছুটা চিন্তিত আছেন বলে তিনি জানান। হাওর গবেষক সালেহীন চৌধুরী জানান, চৈত্র মাসে কিছুটা বৃষ্টি হলে এ বছর বাম্পার ফলন হত। কৃষকরা গত কয়েক বছরের ফসলহানীর ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারত। অন্যান্য বছরের মত এবারও হাজার কোটি টাকার ফসল পাহাড়ি ঢলের হুমকির সম্মুখে আছে। জেলা কৃষি বিভাগের দেয়া তথ্য মতে, জেলার ৩৭টি হাওরে হাইব্রিড, উফশী জাতের ধানই বেশি চাষ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাড়ে ৭ লাখ টন ধানের। টাকার পরিমাণে যা ১১শ কোটি টাকা। সুনামগঞ্জ কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. এস. এম. আফসারুজ্জামান জানান, উত্সব আমেজে জেলায় ধান কাটা শুরু করেছেন কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলন না হলেও ভাল ফলন হবে। কৃষকরা ধানের ভাল দাম পাবে।