খুব বিমর্ষ করে দেয় এসব খবর। যেদিন প্রথম অ্যাটাক হলো সুবীর নন্দীর সেদিন থেকেই নিয়মিত যোগাযোগ হয় তাঁর পরিবারের সাথে আমার। যে বিষয়টি আমাকে সবচেয়ে বেশি ভাবায় তা হলো এ অবস্থায় পরিবারকে সান্তনা দেওয়ার কিছু থাকে না। আল্লাহ এই শোক কাটিয়ে ওঠার শক্তি দিক তাঁর পরিবাকে। মানুষটা ভীষণরকম সংসার ও পরিবারমুখী ছিল। আমি মনে করি সুবীর নন্দী একজন অমর শিল্পী, অর্থাত্ তাঁর মতো শিল্পী আর জন্ম নেবে কি-না জানি না।
‘ইত্যাদি’র অনেকগুলো পর্বে দেখা যায় সুবী নন্দীকে। ২০০৩ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত ইত্যাদিতে বেশ কয়েকটি গান পরিবেশন করেন তিনি
আমার ইত্যাদিতে বরাবরই শুদ্ধ সঙ্গীত ও সাংস্কৃতিক চর্চায় সংশ্লিষ্ট শিল্পীদের অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছি। সেদিক দিয়ে ক্রমাগত হাহাকারের জন্ম দিচ্ছে এমন গুণী শিল্পীদের প্রয়াণে। ৭০ দশক থেকে শুরু করে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি আমাদের উপহার দিয়ে গেছেন অনেক গান। তাঁর কণ্ঠের দ্যুতি শ্রোতাদের মনকে আচ্ছন্ন করতো সুরের মূর্ছনায়। সেই ২০০৩ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত ইত্যাদিতে সুবীর নন্দীর বেশ ক’টি গান করার সুযোগ আমার হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে এই মানুষটি এতটা নিবিড় ছিলেন যা ভাবলেই হাহকারটা খুব বেশি করে আসে। সুবীর নন্দীরা তো এদেশে প্রতিবছর, প্রতি দশকে হয় না। আমরা প্রায় কথায় কথায় বলি এই শূন্যস্থান পূরণ হওয়ার নয়। সুবীর নন্দীর ক্ষেত্রে তাঁর মতো শিল্পীর চলে যাওয়া এদেশের সাংস্কৃতিক জগতে গভীর শুন্যতা তৈরি করে। অসাধারণ ভালো মনের মানুষ ছিলেন তিনি। ইত্যাদির বিভিন্ন পর্ব দেখে তিনি আমাকে ফোন করে তাঁর মতামত জানিয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর পরিবারের প্রতি রইলো গভীর সমবেদনা। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি।