পাকিস্তানে নির্বাচনী সমাবেশে বোমা হামলায় নিহত ২০

পাাকিস্তানে একটি নির্বাচনী সমাবেশ এবং একটি গাড়িবহরে বোমা হামলায় কমপক্ষে ২০ জন নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের পেশোয়ারে এবং বেলুচিস্তান প্রদেশের খুদজার জেলার আনজিরা এলাকায় এসব বোমা হামলার ঘটনায় আরো প্রায় শ’খানেক ব্যক্তি আহত হয়েছে।—খবর ডন এবং রয়টার্সের। তালেবানের বিরোধীতাকারী পাকিস্তানের রাজনৈতিক দল আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টির (এএনপি) সমাবেশে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত ও ৫০ জন আহত হয়েছে। হামলায় এএনপি’র বর্ষীয়ান নেতা ও সাবেক প্রাদেশিক রেলমন্ত্রী গুলাম আহমেদ বিলাউরও আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে চার পুলিশ এবং এক সাংবাদিক রয়েছে। জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা সাফকাত মালিক জানান, ‘এটি একটি আত্মঘাতী হামলা’। হামলায় আহত ৫০ জনের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা সঙ্কটজনক বলে হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। ১১ মে’র সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ সমাবেশের ডাক দিয়েছিল খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সাবেক ক্ষমতাসীন দল এএনপি। নির্বাচনের আগেই এনপি’র ওপর হামলার হুমকি দিয়েছিল পাকিস্তানি তালেবান। তালেবানের এক মুখপাত্র হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে। অপরদিকে, বেলুচিস্তান প্রদেশের খুদজারের আনজিরায় মুসলিম লীগ (নওয়াজ) নেতা সরদার সানাউল্লাহ জেহেরির নির্বাচনী গাড়িবহরে বোমা হামলায় চারজন নিহত এবং ২৫ জন আহত হয়েছে। জেহেরি বেঁচে গেলেও হামলায় তার ছেলে, ভাই, ভ্রাতুষ্পুত্র এবং এক দেহরক্ষী নিহত হয়েছে। নিষিদ্ধঘোষিত বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে। পিএমএল (এন) নেতা জেহেরি খুদজার এবং কালাত জেলা থেকে যথাক্রমে জাতীয় পরিষদ এবং প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। জানা গেছে, মঙ্গলবার তার নির্বাচনী গাড়িবহরে ৩০টির মত গাড়ি ছিল। আনজিরার কাছে একটি সেতুর ওপর পৌঁছালে গাড়িবহরের মধ্যে শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। খুদজারের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা কাজী হুসেইন আহমেদ জানিয়েছেন, বিস্ফোরণে জেহেরির ছেলে, ভাই ও ভ্রাতুষ্পুত্রকে বহনকারী গড়িটি উড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। কালাত বিভাগের কমিশনার ড. মোহাম্মদ আকবর বলেছেন, রিমোর্ট কন্ট্রোলের মাধ্যমে সেতুর নিচে পেতে রাখা বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, ১১ মে’র নির্বাচনের মাধ্যমে পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত সরকারের কাছ থেকে পরবর্তী নির্বাচিত দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা রয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের আগেই এসব হামলায় নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।