চট্টগ্রামে বিএসসি’র জাহাজ দিয়ে পণ্য খালাস শুরু
মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৪৬
চট্টগ্রামে খালাসী জাহাজের ধর্মঘট নিয়ে অচল অবস্থা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। এখনো খালাসী শ্রমিকদের একাংশের ধর্মঘট অব্যাহত আছে। মন্ত্রণালয়ে দফায় দফায় বৈঠকের পরেও খালাসী জাহাজের মালিকরা কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি। এর ফলে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজের মাধ্যমে সরকার পণ্য খালাসে উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়াও খালাসী জাহাজ পরিচালনা নিয়ে জাহাজ মালিকদের মধ্যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা যায়।
বিএসসি জানায়, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গতকাল বুধবার থেকে তারা পণ্য খালাস শুরু করেছে। একটি জাহাজের মাধ্যমে গতকাল পণ্য খালাস শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার আরো দুটি জাহাজ কাজ শুরু করবে। বিএসসি’র জাহাজগুলোর ধারণ ক্ষমতা অন্য খালাসী জাহাজগুলোর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। তবে ধর্মঘটের কারণে পণ্য খালাসের বর্ধিত ব্যয় আমদানিকারকদের দিতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, এ ধরনের অচলাবস্থার কারণে বিদেশি জাহাজগুলোর মাধ্যমে পণ্য পরিবহনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তারা বাংলাদেশি পণ্য পরিবহনে অনীহা দেখাবে। আমদানিকারকরাও আর্থিকভাবে ক্ষতি হবেন।
বিএসসি’র নির্বাহী পরিচালক (বাণিজ্য) মোস্তফা কামাল ইত্তেফাককে বলেন, বিএসসি’র ১৩টি খালাসী জাহাজ রয়েছে। এসব জাহাজের ধারণ ক্ষমতা ১৫-১৬ হাজার মেট্রিক টন। যারা পণ্য খালাস করতে চায় তাদেরকে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। বহির্নোঙরে ১৩ দিন ধরে আটকে থাকা জাহাজগুলোতে অন্যদেশের পণ্যও রয়েছে। তারা বাংলাদেশি পণ্য খালাস করতে না পারায় যেতে পারছে না।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্র জানায়, শিল্প-কারখানার মালিক ও ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের মালিকানাধীন খালাসী জাহাজ শ্রমিক ইউনিয়ন ২০ শতাংশ বর্ধিত ভাতা প্রদানসহ ১৭ দফা দাবিতে গত ৪ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে ধর্মঘট শুরু করে। শিল্প-কারখানা মালিকদের জাহাজ রয়েছে ১৩০টি। ইতিমধ্যে তারা শ্রমিকদের ২০ শতাংশ ভাতা প্রদানের দাবি মেনে নিলে শ্রমিকরা কাজে যোগদান করে। কিন্তু ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলে মালিকরা ২০ শতাংশ ভাতা প্রদানের দাবি মেনে না নেওয়ায় তাদের পরিচালনাধীন জাহাজের শ্রমিকরা ধর্মঘট অব্যাহত রাখে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি ছাড়াও এখন নতুন জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এখন জাহাজ মালিকদের মধ্যে খালাসী জাহাজ পরিচালনা নিয়ে মালিকদের দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ধর্মঘটে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের কো-কনভেনার জাহাঙ্গীর আলম দোভাস ইত্তেফাককে বলেন, আমরা সকল খালাসী জাহাজকে আগের মতো এক সংগঠনের আওতায় এনে পরিচালনার দাবি জানিয়েছি। কিন্তু শিল্প-কারখানা মালিকরা যাদের জাহাজ রয়েছে তারা এই দাবি মানছেন না। বর্তমান অবস্থায় শ্রমিকদের বেতন বাড়ানো কোনভাবে সম্ভব নয়। আমরা এমনিতেই লোকসানে রয়েছি।
শিল্প-কারখানার জাহাজ মালিক আমিনুল হক ইত্তেফাককে বলেন, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পণ্য পরিবহন ভাড়া আমরা নিচ্ছি টন প্রতি ২০০ টাকা। আর ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের জাহাজ নিচ্ছে ৪৮৮ টাকা। এর ফলে পণ্যের মূল্য বেড়ে যাচ্ছে। যদিও ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেল নামের এই সংগঠনের কোন আইনগত ভিত্তি নেই। তারা আইন না মানলে সরকার তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে।