পাকিস্তানে তালেবানের হামলার মুখে উদারপন্থি রাজনীতিকরা
প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০১৩, ২০:৪৭
পাকিস্তানের নির্বাচনের আর মাত্র মাসখানেক বাকি। কিন্তু নির্বাচনের আগে সেখানে নতুন করে সহিংসতা শুরু হয়েছে। দেশটিতে সক্রিয় তালেবান জঙ্গিরা ধর্মনিরপেক্ষ ও উদারপন্থি দলগুলোর প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা ও সমাবেশে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে। নির্বাচনের আগে এরকম সহিংস পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। -খবর বিবিসি ও ডনের।
গত বুধবার খাইবার পাখতুনখাওয়ার সারধেরিতে তালেবানের বিরোধিতাকারী উদারপন্থি রাজনৈতিক দল আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টির (এএনপি) সহ-সভাপতি ফারুক খানকে হত্যার জন্য চালানো বোমা হামলা ব্যর্থ হয়ে যায়। রিমোর্ট কন্ট্রোলনিয়ন্ত্রিত বোমায় ফারুক খানের গাড়ি ধ্বংস হলেও তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যরা কোনোমতে বেঁচে যান। মঙ্গলবার পেশোয়ারে এএনপির আরেকটি নির্বাচনী সমাবেশে আত্মঘাতী বোমা হামলায় কমপক্ষে ১৬ জন নিহত হয়। এই হামলায় এএনপির বর্ষীয়ান নেতা এবং সাবেক প্রাদেশিক রেলমন্ত্রী গুলাম আহমেদ বিলৌর অল্পের জন্য বেঁচে যান। তবে এর আগে রবিবার সোয়াতে এএনপির এক নেতাকে হত্যা করে তালেবান। নির্বাচনের আগেই এএনপির ওপর হামলার হুমকি দিয়েছিল তালেবান। উগ্রপন্থি তালেবান দেশটির সাধারণ মানুষকে এএনপিসহ পাকিস্তানের আরো দু’টি উদারপন্থি দলের নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে না যাওয়ার জন্য ক্রমাগত হুঁশিয়ারি দিয়ে যাচ্ছে। তবে তালেবানের বোমা হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া এনএনপি নেতা গুলাম আহমেদ বিলৌর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একই সাথে তিনি ‘যারা মুসলমানদের হত্যা করে তারা মুসলিম হতে পারে না’— এই ঘোষণা দেয়ার জন্য দেশটির ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
বিলৌর বলেছেন, এএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর আর কোনো সন্ত্রাসী হামলা হলে দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, প্রধান বিচারপতি ইফতেখার মোহাম্মদ চৌধুরি, সেনাবাহিনীর প্রধান আশরাফ পারভেজ কায়ানি এবং প্রধান নির্বাচনী কমিশনার ফখরুদ্দীন জি. ইবরাহীমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে। তিনি আরো বলেন, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নীরবতা ভেঙ্গে সব রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দলের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেয়া উচিত।