অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলছে দ্বিগুণ গতিতে

বরফ গলছে, আর বাড়ছে সমুদ্রের উচ্চতা। উষ্ণায়নের ফলে দক্ষিণ মেরুর পশ্চিমাঞ্চলের বিশাল বরফ খণ্ড গলে পড়ছে আর সেটি ঘটছে খুব দ্রুতগতিতে, জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। পৃথিবীর দক্ষিণ মেরু যাকে আমরা অ্যান্টার্কটিকা বলে জানি সেখানকার বরফ দ্রুত গলে যাচ্ছে, নতুন করে এই খবরটি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকরা। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছেন, যা ধারণা করা হয়েছিলো তার চেয়েও প্রায় দ্বিগুণ গতিতে পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলে পড়ছে। তারা জানিয়েছেন, ১৯৫০ থেকে এখন পর্যন্ত অ্যান্টার্কটিকার তাপমাত্রা বেড়ে গেছে ২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পরিবেশের সাধারণ যে রূপান্তর ঘটে থাকে, এটি তার চেয়েও প্রায় তিনগুণ বেশি দ্রুত গতিতে ঘটছে। — খবর ডয়চে ভেলের। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকাতে যে পরিমাণ বরফ রয়েছে তার সব যদি গলে যায় তাহলে বিশ্বের সমুদ্রের পানির উচ্চতা ১১ ফুট বেড়ে যাবে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা যে ওই অঞ্চলে তাপমাত্রা দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকায় বরফ গলে যাচ্ছে ধারণার চেয়ে বেশি দ্রুতগতিতে। এর ফলে বাংলাদেশ, ট্যুভ্যালুর মত দেশগুলো ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে যাচ্ছে। এমনকি লন্ডন এবং বুয়েনস আয়ার্সের মত সমুদ্র তীরবর্তী শহরগুলোও বিপদের মধ্যে পড়বে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছে, গত এক শতাব্দীতে সমুদ্রের পানির উচ্চতা ২০ সেন্টিমিটার বা প্রায় আট ইঞ্চি বেড়ে গিয়েছে। জাতিসংঘের জলবায়ু বিশেষজ্ঞের প্যানেল ধারণা করছে, চলতি শতাব্দীতে ১৮ থেকে ৫৯ সেন্টিমিটার বা সাত থেকে ২৪ ইঞ্চি পর্যন্ত বাড়বে সমুদ্রের পানির উচ্চতা। এর সঙ্গে যদি যোগ হয় আর্কটিকের বরফ তাহলে তো কথাই নেই। বিশ্ব উষ্ণায়নের এই ধাক্কা যে কেবল দক্ষিণ মেরুতে লাগছে তা নয়। গত কয়েক বছরে উত্তর মেরু আর্কটিকের বরফও কমে আসছে। অন্যদিকে দক্ষিণ মেরু অ্যান্টার্কটিকার বেশ কয়েকটি বরফের চাঁই ভেঙে পড়েছে। আর এগুলো ভেঙে পড়ার অর্থ হচ্ছে বরফ গলে যাচ্ছে। বিশ্ব উষ্ণায়ন উত্তর-দক্ষিণ দুই দিক থেকেই বিপদ ডেকে নিয়ে আসছে গোটা বিশ্বের জন্য।