আয়াক্স আমস্টারডাম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালের ফিরতি লেগে প্রথম লেগের অগ্রগামিতা ধরে রাখতে আজ রাতে টটেনহ্যাম হটস্পারকে আতিথ্য দেবে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রতিযোগিতার নকআউট পর্বে নিজেদের মাঠের পারফর্মেন্স আয়াক্সকে খেলাটির আগে কিছুটা দুর্ভাবনায় রাখবে। কারণ অতিথি টটেনহ্যাম এক গোলের ঘাটতি পুষিয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই পা রাখবে ইয়োহান ক্রুইফ অ্যারেনায়।
মৌসুমের শুরুতে আয়াক্সের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলা নিয়েই ছিল শঙ্কা। ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের আসরে খেলা নিশ্চিত করতে হয়েছিল ‘প্লে অফ’ খেলে। সেই আয়াক্সই এ মৌসুমে বদলে গেল নতুন কোচ এরিক টেন হ্যাগের অধীনে।
গেল মৌসুমে ঘরোয়া লিগ কাপের শেষ ষোল থেকেই বিদায় নেওয়া আয়াক্স এবার শিরোপাটি পুনরুদ্ধার করেছে ইতোমধ্যেই। ঘরোয়া লিগ এরেডিভিসিতেও নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পিএসভি আইন্দহোভেনের চেয়ে গোল ব্যবধানে এগিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থানে আছে ম্যাথিয়াস ডি লিখটের দল।
সঙ্গে যদি চ্যাম্পিয়ন্স লিগও জিততে পারে তবে ১৯৭১-৭২ মৌসুমের পর আবারও ‘ট্রেবল’ জিতে ইতিহাসের দ্বিতীয় দল হিসেবে এই কীর্তি গড়বে আয়াক্স। সেজন্যে আগে টটেনহ্যামের বিপক্ষে নিজেদের এক গোলের অগ্রগামিতা রক্ষা করতে হবে তাদেরকে।
এক্ষেত্রে আয়াক্সের সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার নাম ইয়োহান ক্রুইফ অ্যারেনা। এখানে নিজেদের শেষ দুই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট ম্যাচে জিততে পারেনি টেন হ্যাগের দল। রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরেছিল তারা, আর পরের রাউন্ডে জুভেন্তাসের সঙ্গে ড্র করেছিল ১-১ গোলে। এর আগে বায়ার্ন মিউনিখের সঙ্গে ড্র করেছিল দলটি।
তবে দুইবারই ফিরতি লেগে দারুণ পারফর্ম করে দুই ইউরোপীয় শক্তির বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছিল দলটি। ২৩ বছর পর ফাইনাল নিশ্চিত করতে হলে এবার নিজেদের মাঠেই প্রতিপক্ষকে রুখতে হবে দলটিকে।
এদিকে টটেনহ্যামের সামনে আছে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল নিশ্চিত করার হাতছানি। প্রথম লেগে নিজেদের মাঠে হারের কারণে ইতিহাস অবশ্য কথা বলছে তাদের বিপক্ষেই। এর আগে সেমিফাইনালের প্রথম লেগে হারের পর ফাইনালে খেলার নজির আছে কেবল একবারই, সেটিও প্রতিপক্ষ আয়াক্সেরই। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে সেবার শিরোপা জিতেই ক্ষান্ত হয়েছিল দলটি। এবার টটেনহ্যামও নিশ্চয়ই সেরকম কিছুই চাইবে।
নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে এই ম্যাচে ফিরছেন স্পার্স ফরোয়ার্ড সন হিউং মিন, যার তিন গোলেই মূলত ম্যানচেস্টার সিটিকে হটিয়ে সেমিফাইনালে উঠে এসেছে কোচ মরিসিও পচেত্তিনোর শিষ্যরা। ফিরতি লেগের আগে তার অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতভাবেই উজ্জীবিত করবে টটেনহ্যামকে।
আয়াক্সের মাঠে ইংলিশ দলগুলোর সবচেয়ে বড় জয়টি টটেনহ্যামেরই। ১৯৮১ সালে আয়াক্সের মাঠ থেকে ৩-১ গোলে জয় নিয়ে ফিরেছিল তারা। তেমন কিছুর পুনরাবৃত্তি এবার হলেই যে প্রথমবারের মতো ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যায় স্পার্সদের। তাই আশায় বুক বাঁধছেন টটেনহ্যাম ডিফেন্ডার কিয়েরান ট্রিপিয়ার।
ইংলিশ এই রাইটব্যাক বলেন, ‘সেখানে কোনো ভয় নিয়ে যেতে পারি না আমরা। আমরা আত্মবিশ্বাসী এবং বিশ্বাস করি যে সেখানে আমরা গোল করতে পারব। জিততে পারব। পুরো দলই বিশ্বাস করে সেখানে আমাদের হারানোর কিছু নেই এবং আমরা সেখানে যতো সম্ভব গোল করার চেষ্টা করব।’
তিনি আরো বলেন, ‘এটা কেবল ১-০ আর তাদের পক্ষে একটা ‘অ্যাওয়ে গোল’ আছে কিন্তু আপনি যদি ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে আমাদের পারফর্মেন্স, ইচ্ছাশক্তি ও প্রতিজ্ঞার কথা ভাবেন তবে মানতেই হবে যে কোনো কিছুই হতে পারে এখানে।’