সহিংসতায় জিডিপি কমবে দশমিক পাঁচ শতাংশ :এসকেপ

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেছেন, দেশে চলমান সহিংস পরিস্থিতিতে মোট দেশজ উত্পাদন (জিডিপি) দশমিক ৫ থেকে দশমকি ৬ শতাংশ কমে যাবে। গতকাল আগারগাঁওস্থ আইডিবি ভবনে জাতিসংঘের এশীয় এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক কমিশনের (এসকেপ) সমীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশকালে তিনি কথা বলেন। এসময় এসকেপের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চলতি অর্থ বছর শেষে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশে নেমে আসবে। বিশ্বের ৩৭টি দেশে গতকাল একযোগে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম অর্থনৈতিক ঝুঁকির বিষয়ে বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতায় উত্পাদন ও পরিবহন ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়, এর ফল হিসেবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যাহত হয়। মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন, বিআইডিএস-এর মহাপরিচালক ড. মুস্তফা কে মুজেরী। বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী নীল ওয়াকার এসময় উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা জরুরি। রাজনৈতিক সহিংসতায় অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয়টি রাজনৈতিক দলগুলো উপেক্ষা করে থাকে। রাজনৈতিক দলগুলোকে সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হবার আহ্বান জানান তিনি। ড. মুস্তফা কে মুজেরী উল্লেখ করেন, এসকেপের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ থাকার প্রক্ষেপণ করা হলেও এ হিসেব কয়েক মাস পূর্বের। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রবৃদ্ধির হার আরো কমে যাওয়ার আশংকা করেন তিনি। তবে তিনি আরো উল্লেখ করেন, উন্নয়নশীল অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার অনেক ভালো। প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কৃষি খাতে উত্পাদন কমে যাওয়ার কারণে ২০১০-১১ অর্থ বছরে ৬ দশমকি ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও ২০১১-১২ অর্থ বছরে প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসে। দুর্বল অবকাঠামো, বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং নির্বাচনের বছরে রাজনৈতিক অস্থিরতায় চলতি ২০১২-২০১৩ অর্থ বছরে ৭ দশমকি ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দুরূহ বলে উল্লেখ করেছে এসকেপ।