আরো ৩ বছর কর রেয়াতের সুবিধা চায় বিজেএসএ
প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০১৩, ২২:২৯
পাট শিল্পের উপর কর রেয়াতের সুবিধা (১৫ শতাংশ) ২০১৬ সাল পর্যন্ত অব্যাহত রাখার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএসএ)। এই সুযোগ চলতি অর্থ বছর শেষ হওয়ার কথা। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত প্রাক বাজেট আলোচনায় একই সঙ্গে সংগঠনের পক্ষ থেকে এ শিল্পের নগদ সহায়তা কর মুক্ত রাখা এবং উেস কর্তিত আয়কর চূড়ান্ত করদায় হিসেবে বিবেচনা করারও প্রস্তাব দেয়া হয়। এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেনের সভাপতিত্ব খাত ভিত্তিক এ আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেন, বাংলাদেশ ডাল ব্যবসায়ী সমিতি, সুগার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশন, জুট অ্যাসোসিয়েশন, জুট গুডস অ্যাসোসিয়েশন, সিএনজি ফিলিং স্টেশন এন্ড কনভার্সন অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা।
ইসলামপুর বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতি বস্ত্র আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করেছে। সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, গত ২০১০-১১ অর্থবছরে বস্ত্র আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪৫ শতাংশ করা হয়। এর ফলে সব মিলিয়ে ১৩১ শতাংশ শুল্ক ও কর দিতে হচ্ছে। করের হার অতিরিক্ত হওয়ায় অসাধু ব্যবসায়ীরা বস্ত্র আমদানির ক্ষেত্রে রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। বস্ত্র আমদানিকারকরা অভিযোগ করেন, আমদানিকৃত বস্ত্রে প্রাক জাহাজীকরণ পরিদর্শন (পিএসআই) কোম্পানি অস্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণ করে থাকে। এই মূল্যায়নের উপর আবার বাড়তি ধরে শুল্ক কর্তৃপক্ষ শুল্কায়ন করে থাকে। তারা এই সমস্যা থেকে অব্যাহতি চান। এছাড়া তারা পণ্য চালান তিন কার্যদিবসের মধ্যে খালাস করার বিদ্যমান বিধান কার্যকর করারও প্রস্তাব দেন।
আলোচনায় ব্রেড বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি বিস্কুট ও কেকের মূল্য সংযোজন করমুক্ত (ভ্যাট) সীমা বিদ্যমান ১০০ টাকার স্থলে ২০০ টাকা করার প্রস্তাব দেয়। সিএনজি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন তাদের লেনদেনের উপর বিদ্যমান কর দশমিক ৫০ শতাংশ বাতিল করার প্রস্তাব দেয়। মিষ্টি প্রস্তুতকারক সমিতি সদস্যরা উত্পাদনস্থল ও বিক্রয়স্থলের মধ্যে যে কোন এক জায়গা থেকে ভ্যাট নেয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা মোট মুনাফা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ না ধরে ২০ শতাংশের কম ধরার প্রস্তাব করেন। তাদের এই প্রস্তাবের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, একই নামে পৃথক মালিকানার দোকান থাকে। আবার একই উত্পাদকের কাছ থেকে মিষ্টি সংগ্রহ করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন দামে বিক্রি করে। মূল্য সংযোজিত হলেই এর উপর ভ্যাট দিতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। উদ্যোক্তারা যাতে সহজ শর্তে ঋণ নিতে পারে সে জন্যে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড টেক্সটাইল অ্যাসোসিয়েশন বাজেটে থোক বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করে। আলোচনায় উপস্থিত ব্যবসায়ীদের তরফে অভিযোগ করা হয়, টেক্সটাইল, ডাইং ও প্রিন্টিং খাত ভ্যাট মুক্ত থাকার পরও স্থানীয় প্রশাসন ও এনবিআরের কর্মকর্তারা বাধা সৃষ্টি করেন।