বনানীতে মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত কনটেইনার চাপা পড়ে নিহত ১

রাজধানীতে মালবাহী ট্রেনের কনটেইনার বস্তির ওপর আছড়ে পড়ে একজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে বনানী চেয়ারম্যানবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম মজিবর রহমান (৩৭)। তিনি পেশায় রিকশাচালক। ট্রেনটি কমলাপুর থেকে চট্টগ্রাম যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ঢাকার সঙ্গে ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রেনটি বনানী এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় বনানী সৈনিক ক্লাবের কাছে ট্রেনের তিনটি ক্যারেজ লাইনচ্যুত হলে একটি কনটেইনার পার্শ্ববর্তী বস্তির ওপর ছিটকে পড়ে। কনটেইনারের নিচে চাপা পড়া ঘরগুলো থেকে তিন শিশু ও এক নারীসহ ছয়জনকে উদ্ধার করা হয়। এদের মধ্যে মারাত্মক আহত মজিবর রহমানকে উদ্ধার করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেয়ার পর সেখানে তিনি মারা যান। রেলওয়ের পরিদর্শক (ট্রাফিক) হুমায়ুন কবীর জানান, মালবাহী ট্রেনটি চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে কমলাপুর রেল স্টেশন ছেড়ে যায়। এক পাশের ট্রেন লাইন খোলা থাকায় দুর্ঘটনার পরও ট্রেন চলাচল করছিল। ধারণা করা হচ্ছে এয়ারবক্স বিকল হয়ে যাওয়ায় ক্যারেজের চাকা আটকে গিয়েছিল। এ কারণে ক্যারেজগুলো লাইন থেকে বেরিয়ে যায় এবং ওই অবস্থায় ট্রেনটি বেশ কিছুদূর এগিয়ে যায়। ঢাকা রেলওয়ে থানার (জিআইপি) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মজিদ জানান, নিহত মজিবরের বাড়ি নেত্রকোনার কলমাকান্দায়। তিনি ওই বস্তিতে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। এদিকে গতকাল বিকালে ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছেন রেলওয়ের মহাপরিচালক আবু তাহের। তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ খুঁজতে রেলওয়ের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ঢাকা) সালাউদ্দিন আহমেদকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন ঢাকা বিভাগীয় প্রকৌশলী আরমান হোসেন, বিভাগীয় প্রকৌশলী (সিগন্যাল ট্রান্সফার) মোহাম্মদ জাকারিয়া এবং বিভাগীয় প্রকৌশলী (ক্যারেজ) মোহাম্মদ সেলিম। তদন্ত কমিটিকে তিনদিনের মধ্যে রিপোর্ট প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রেলওয়ে ঢাকা বিভাগীয় ব্যবস্থাপক শাহদাত হোসেন জানান, দুর্ঘটনা কবলিত তিনটি ‘ক্যারেজ’ ও উল্টে পড়া কন্টেইনার সরিয়ে নেয়ার পর বিকাল পাঁচটার দিকে একটি লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচলা শুরু হয়েছে।