কোটালীপাড়ায় খাল পুনঃখনন

লক্ষাধিক মানুষ সুফল পাচ্ছে

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় বেসরকারি সংস্থা কৈননীয়ার ফুড সিকিউরিটি প্রোগ্রামের আওতায় খাল পুনঃখননের সুফল পাচ্ছে লক্ষাধিক জনগণ। খাল পুনঃখননের অভাবে যে সকল এলাকায় বোরো আবাদ ব্যাহত হতো সে সকল এলাকায় খাল খননের পরে আবাদ হচ্ছে বলে সরেজমিনে দেখা যায়। কৈননীয়া সংস্থার কোটালীপাড়া অফিস সূত্রে জানাগেছে-দাতা সংস্থা ওয়ার্ল্ড রিলিফ কানাডা ও কানাডিয়ান ফুডগ্রেইন্স ব্যাংক এর কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির আওতায় সংস্থাটি খাল পুনঃখনন কাজ করছে। গত ৫ বছরে কৈননীয়া সংস্থা উপজেলার শুয়াগ্রাম, কান্দি, রাধাগঞ্জ, সাদুল্লাপুর, কুশলা ইউনিয়নে ৭৭ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করেছে। এ খনন কাজে অংশগ্রহণকারীদের চাহিদামত খাদ্য ও খালের মাটি দিয়ে রাস্তা তৈরি করে বনায়নের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হয়। কৈননীয়া সংস্থার কোটালীপাড়া অফিসের প্রোগ্রাম অফিসার অসীত বরণ মণ্ডল বলেন-আমরা উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ৭৭ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করেছি। এই ৫টি ইউনিয়নের যে খালগুলো দীর্ঘদিন ধরে খনন করা হয়নি, সে সকল খাল স্থানীয় চেয়ারম্যানদের সঙ্গে আলাপ করে আমরা পুনঃখনন করেছি। রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অমৃত লাল হালদার বলেন-আমার ইউনিয়নে এ বছর কৈননীয়া সংস্থা ২০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করেছে। এই ২০ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের ফলে আমার এলাকার কয়েকশ হেক্টর জমি আবাদের আওতায় এসেছে। অপরদিকে এলাকার লোকজন এই খাল পুনঃখনন কাজে অংশগ্রহণ করে আর্থিক ভাবে সচ্ছল হয়েছে। রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের আমবাড়ী গ্রামের দিনমজুর দুলাল পাইক বলেন-এই শুকনো মৌসুমে আমাদের এলাকায় কোন কাজ থাকে না। গত ৫ বছর ধরে আমরা কৈননীয়ার সংস্থার খাল পুনঃখনন কাজে অংশগ্রহণ করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছি। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আমিনুজ্জামান খান মিলন বলেন-কৈননীয়া সংস্থা আমাদের উপজেলায় যে ৭৭ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করেছে তাতে প্রায় লক্ষাধিক জনগণ উপকৃত হচ্ছে। এসব খাল পুনঃখননে অনেক বিলের জলাবদ্ধতা দূর হয়েছে। অপরদিকে খননের মাটি দিয়ে যে রাস্তা তৈরী করা হয়েছে সে রাস্তা ব্যবহার করে এলাকার লোকজন সহজেই উপজেলা সদরে আসতে পারছে।