সাফল্য গাঁথা
কুটির শিল্পে দু’শ নারীর কর্মসংস্থান
প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০১৩, ১৮:১২
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুর শিরিন আক্তারের ছোট্ট কুটির শিল্প উদ্যোগ এখন দু’শ গ্রামীণ মহিলার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। মা শিউলী বেগমকে সাথে নিয়ে শিরিন আক্তার ২০০৯ সালে বাবু ব্যাগ হাউজ নামে নিজ বাড়িতে ক্ষুদ্র পরিসরে একটি কুটির শিল্প গড়ে তোলেন। ধীরে ধীরে তার পরিধি বড় হচ্ছে।
গ্রামবহুল ছোট্ট পৌরসভা হরিণাকুণ্ডু। এ পৌরসভার এক পাশে শিরিন আক্তারের বাড়ি। একটি ছোট্ট টিনের ঘরে প্রথমে ব্যাগ তৈরি শুরু করেন শিরিন। তাকে সহায়তা করতেন মা শিউলী বেগম। মা-মেয়ের পরিশ্রমে ধীরে ধীরে প্রসার পায় তাদের ব্যাগ তৈরির ব্যবসা। মা কুষ্টিয়া থেকে ব্যাগ তৈরির উপকরণ কিনে আনতেন। মেয়ে শিরিন প্রথমে নিজেই ব্যাগ তৈরি করে বাজারে বিক্রি করতেন। এভাবে তারা গড়ে তোলেন কুটির শিল্পটি। ব্যাগের চাগিদা বাড়লে আরো কয়েকজন মেয়েকে ব্যাগ তৈরির কাজে নিয়োগ করেন। বর্তমানে তার বাড়িতে ২০জন মহিলা ব্যাগ তৈরি করে। পাশাপাশি শুরু করেন হস্তশিল্পের কাজ। এ হস্তশিল্প ব্যাপক বাজার পায়। নকশীকাঁথা, কুশন, থ্রিপিস, ওড়না, বেডশিট ও পাঞ্জাবির নকশা তৈরি করে তার অধীনের শিল্পীরা, সবাই মহিলা। তাদের মধ্যে স্কুল-কলেজের ছাত্রী ও গৃহবধূ আছে। ছাত্রীরা হাতের কাজ করে মাসে ৭শ’ টাকা থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছে। নিজেদের লেখাপড়ার খরচ মিটিয়ে বাবার সংসারে সাহায্য করছে মেয়েরা। গৃহিনীরা সংসারের কাজের অবসরে হাতের কাজ করে বাড়তি উপার্জন করছে। এতে সংসারে কিছুটা হলেও স্বচ্ছলতা আসছে। কুলবাড়ে, বলরামপুর, তাহেরহুদা, ভবানীপুর, জোড়াদহ, হরিশপুর, চিথলিয়াপাড়া প্রভৃতি গ্রামের ছাত্রী ও মহিলারা তার কুটির শিল্পের শিল্পী। ঢাকা থেকে অর্ডার এনে শিল্পীদের বাড়িতে কাপড় পৌঁছে দেয় শিরিনের মা। ডিজাইনও ঢাকা থেকে আনা হয়। কাজ শেষে আবার ঢাকায় তা পাঠানো হয়। তার কুটির শিল্প ভাল বাজার পেয়েছে। এ ভাবেই গ্রামে তার কুটির শিল্প এগিয়ে চলেছে। শিরিন জানান, পুঁজি পেলে আরো প্রসার ঘটাতে পারেন তার এ শিল্প। সৃষ্টি হবে আরো মহিলার কর্মসংস্থান। আদিবাসী দরিদ্র শ্রেণির মহিলারাও তার হস্তশিল্পের কারিগর। এ সম্প্রদায়ের মেয়েদের কাজের কোন সুযোগে ছিল না। তারা কাজের সুযোগ পেয়ে খুশি। তবে শিল্পীরা জানায়, কাজে মজুরি কম। আদিবাসী সম্প্রদায়ের ছাত্রী সঞ্চিতা বিশ্বাস জানায়, মাসে ৫শ’ টাকা থেকে দেড় হাজার পর্যন্ত আয় করে অনেকে। সে লেখাপড়ায় খরচ মিটিয়ে উদ্বৃত্ত টাকা বাবাকে দিয়ে থাকে। গৃহবধূ ফরিদা বেগম বলেন, গ্রামের মহিলারা কাজের অবসরে নকশার কাজে বাড়তি উপার্জন করছে।