এক প্রেমিক দিয়ে অন্য প্রেমিকের মাথা কেটে খুনের বর্ণনা দিলেন প্রেমিকা

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার বাশাইল পশ্চিমপাড়ার কৃষক আইয়ুব নবীকে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যাকাণ্ডে প্রধান সন্দেহভাজন মফিজ উদ্দিনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে পুঠিয়ার বেলপুকুর এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে দুর্গাপুর থানা পুলিশ পার্শ্ববর্তী সাইবাড় গ্রামের একটি পুকুরের কাছ থেকে আইয়ুবের বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করে। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মাথাটি তার কবরে রাখা হয়। তার আগে মঙ্গলবার সকালে উপজেলার বাশাইল পশ্চিমপাড়ার জমিতে পড়ে থাকা আইয়ুবের মস্তকবিহীন দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার পর সন্দেহভাজন হিসেবে নিহত আইয়ুবের প্রেমিকা ফরেজানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ফরেজান তার অপর প্রেমিক মফিজ উদ্দিনকে নিয়ে আইয়ুবকে মাথা কেটে হত্যার বীভত্স বর্ণনা দিয়েছেন আদালতে। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, ত্রিভুজ প্রেমের নির্মম বলি হয়েছেন আইয়ুব নবী। গ্রেফতার ফরেজানের সঙ্গে কৃষক আইয়ুব এবং পার্শ্ববর্তী সাইবাড় পশ্চিমপাড়ার মৃত ময়েজউদ্দিনের পুত্র মফিজ উদ্দিন দুইজনেরই পরকীয়া প্রেম ছিল। এই প্রেম নিয়ে দুই প্রেমিকের মধ্যে বিরোধ বাধলে মফিজ ও ফরেজান আইয়ুবকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ফরেজান নিজেই এই হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়েছেন। খুনের বীভত্স বর্ণনা : আদালতে প্রদত্ত জবানবন্দিতে এক সন্তানের জননী ফরেজান (৪২) বলেছেন, আইয়ুবের (৪৮) সঙ্গে তার পরকীয়াও দুই প্রেমিকের মধ্যে বিরোধ বাধলে মফিজ ও ফরেজান আইয়ুবকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ফরেজান নিজেই এই হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়েছেন। খুনের বীভত্স বর্ণনা : আদালতে প্রদত্ত জবানবন্দিতে এক সন্তানের জননী ফরেজান (৪২) বলেছেন, আইয়ুবের (৪৮) সঙ্গে তার পরকীয়া প্রেম ছিল। পরে মফিজের (৪৫) সঙ্গেও তার পরকীয়া প্রেম গড়ে ওঠে। এ নিয়ে আইয়ুব ও মফিজের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। মফিজ কয়েকবার আইয়ুবকে ফরেজানের বাড়িতে যেতে নিষেধ করে। কিন্তু মফিজের নিষেধ মানতে রাজি ছিলেন না আইয়ুব। ক্ষুব্ধ মফিজ এক পর্যায়ে আইয়ুবকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা মোতাবেক গত সোমবার সন্ধ্যায় ফরেজানের ঘরে লুকিয়ে থাকেন মফিজ। এরপর ফরেজানকে বলেন আইয়ুবকে খবর দিয়ে আনার জন্য। ফরেজান খবর পাঠালে রাত ৯টার দিকে আইয়ুব তার বাড়িতে যান। বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে ফরেজান ও আইয়ুব কথা বলতে থাকেন। এ সময় মফিজ চুপি চুপি পেছনে গিয়ে ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে আইয়ুবের গলায় কোপ দেন। কোপ খেয়ে আইয়ুব মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে মফিজ নিজেই লোহার শাবল ও সেই হাসুয়া দিয়ে আইয়ুবের মাথাটি দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করেন। ফরেজান ঘর থেকে বস্তা এনে দিলে মৃতদেহটি বস্তায় ঢোকান মফিজ। কিন্তু রক্ত পড়তে থাকায় ফরেজান আরেকটি বস্তা এনে দিলে তার ভেতর দেহ ও খণ্ডিত মাথা ভরে মফিজ নিজের মাথায় করে বস্তাভর্তি লাশ নিয়ে চলে যান। কিছুক্ষণ পর মফিজ ফিরে এসে জানান, লাশ পুঁতে ফেলা হয়েছে। এরপর শাবল ও হাঁসুয়া ফেরত দিয়ে মফিজ চলে যান। রাজশাহীর অতিরিক্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে ফরেজানের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সকালে উপজেলার বাশাইল পশ্চিমপাড়ার জমিতে পড়ে থাকা আইয়ুবের মস্ককবিহীন দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতে নিহতের বড় ছেলে হাসেম আলী দুর্গাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এলাকাবাসীর সহায়তায় পুলিশ ফরেজান ও তার ছেলে আহমেদ রহিম রিজভীকে (২২) গ্রেফতার করে। ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন বুধবার সকালে মাথা ছাড়াই নিহতের লাশ দাফন করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুর্গাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইদুল ইসলাম জানান, আইয়ুবের দেহ পাওয়া গেলেও মাথা পাওয়া যাচ্ছিল না। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে সাইবাড় পশ্চিমপাড়ায় মফিজের বাড়ির একশ’ গজ পূর্বে একটি পুকুরের কাছে রক্তমাখা বস্তা দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ সেখানে তল্লাশি চালিয়ে রক্তমাখা বস্তা, রশি ও মাটিচাপা দেয়া আইয়ুবের বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করে।