তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে কোন আলোচনা নয় :হানিফ

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কিভাবে সুষ্ঠুভাবে হয় তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে জাতীয় সংসদে বাতিল হওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আলোচনা নয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হওয়া তিনটি জাতীয় নির্বাচনের কোনটিই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়নি। তারপরেও বিএনপি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন না চেয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায়। আগামী ৫ মে দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য মালয়েশিয়ায় কিভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন হয় তা দেখে আসার জন্য বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। শুক্রবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিশ্বের অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মত আগামী জাতীয় নির্বাচনও নির্বাচন কমিশনের অধীনে হবে উল্লেখ করে মাহবুব-উল-আলম হানিফ বিরোধী দলের উদ্দেশে বলেন, ফটিকছড়ির ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ না করে যারা আবারো এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর নির্দেশ দেয়, তারা কোন রাজনৈতিক দল নয়, সন্ত্রাসী দল। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার ১৮ দলের সমাবেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা বলেছিলেন, ‘বিএনপি নেতাদের ফটিকছড়ির মত সারাদেশে সাহসী ভূমিকা রাখতে হবে। আওয়ামী গুণ্ডাবাহিনীকে প্রতিরোধ করতে হবে।’ খোকার এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে হানিফ বলেন, এ বক্তব্য শুনে মনে হয়েছে তারা কি রাজনীতিবিদ? তাদের কথা তো সন্ত্রাসীদের মত। রাজনীতিবিদ নয়, জনগণ আপনাদের সন্ত্রাসীরূপে আখ্যায়িত করবে। তাই রাজনীতি ছেড়ে দিয়ে সন্ত্রাসীদের খাতায় নাম লেখান, সন্ত্রাসী সংগঠন গড়ে তুলুন। অন্যথায় মতাদর্শ বদলান। হেফাজতে ইসলামের সমালোচনা করে হানিফ বলেন, আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতারের পর পত্রিকার সাংবাদিকরা বিবৃতি দিতে পারেন, মুক্তি চাইতে পারেন। কিন্তু হেফাজতে ইসলাম কেন তার মুক্তি চাইবে? তারা কোন রাজনৈতিক সংগঠন নয়। তাহলে কি হেফাজতের কর্মসূচিকে নিয়ে টাকা নেয়ার যে কথা উঠেছিল তা ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে তারা তার মুক্তি চাচ্ছেন? হেফাজতকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনারা যে মহান ব্রত নিয়ে কাজ করছেন তাতে আপনারা সীমাবদ্ধ থাকেন। ইতিমধ্যে আপনাদের কাজে প্রশ্ন উঠেছে। লংমার্চ নিয়ে মানুষের অনেক কৌতূহল ছিল। তিনি বলেন, তারা ধর্মীয় সংগঠন। তাদের নিয়ে আমাদের সমালোচনা করা উচিত নয়। আমরা চাই তাদের কর্মকাণ্ড ধর্মের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখুক। বিরোধী দলের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরো বলেন, আসলে বিএনপি ও এ দেশের সুশীল সমাজ কি চায় তা আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। তাই সেদিকে কারও কোন আগ্রহ নেই। তিনি বলেন, গত সাড়ে চার বছরে মহাজোট সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত কোন নির্বাচনই বিতর্কিত হয়নি। জাতীয় নির্বাচনের সময় আস্থার সংকট হয়েছে বিএনপির কারণে উল্লেখ করে তিনি বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করতে আমরা আলোচনায় বসি। মালয়েশিয়ায় গিয়ে সেখানে নির্বাচন দেখে এসে প্রস্তাব দিন। সংগঠনের সভাপতি এডভোকেট তারানা হালিম এমপির সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন এফডিসির মহাপরিচালক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এটিএম শামসুজ্জামান, সৈয়দ হাসান ইমাম, ড. এনামুল হক, শেখ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা প্রমুখ। সভার শুরুতে জিল্লুর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।